উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ করে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিল এক পাকিস্তানি নাগরিক। কিন্তু তার আগেই বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF arrest Pakistani spy)। ধৃতের নাম রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলম। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর একাধিক চরের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, এই ঘটনায় তপসিয়া থেকেও মহম্মদ ইজাজ নামের আরও এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নেপালের কাঠমান্ডু থেকে বিহারের রক্সৌল হয়ে কলকাতায় প্রবেশ করেছিল রানা। এর আগেও সে বিভিন্ন সময়ে এই শহরে যাতায়াত করেছে এবং কলকাতার তপসিয়া এলাকায় লুকিয়ে থাকত। হাবড়া থেকে পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার সমস্ত বন্দোবস্ত সে পাকা করে ফেলেছিল। বাংলাদেশের বেনাপোলে পাভেল নামের এক সহযোগী তার জন্য অপেক্ষা করছিল বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
বুধবার হাবড়া এলাকায় এসটিএফের জালে ধরা পড়ার পর প্রথমে সে নিজের নাম ওয়াহাব আলম এবং নিজেকে তপসিয়ার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। এমনকি তদন্তকারীদের সে নিজের পরিচয়পত্র হিসেবে একটি ভোটার কার্ড ও [আধার কার্ড রেড্যাক্টড] ফোটোকপি দেখায়। কিন্তু পুলিশের তরফ থেকে যাচাই করে দেখা যায়, ওই ভোটার কার্ডের নাম ২০২৬ সালের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বাতিল হয়ে গিয়েছে। এর পরেই তার কাছ থেকে পাকিস্তানি পাসপোর্টের আসল তথ্য এবং আসল পরিচয় সামনে আসে।
বাংলাদেশ সীমান্ত পেরোনোর ঠিক আগেই রানা তার ব্যবহার করা মোবাইল ফোনটি নষ্ট করে ফেলেছিল। তবে গ্রেপ্তারির সময় তার ব্যাগ তল্লাশি করে একটি নোটবুক উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই নোটবুকে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের একাধিক ফোন নম্বর লেখা রয়েছে। এছাড়া তার কাছ থেকে দুটি সিম কার্ডও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রানা ও তার জালের সঙ্গে যুক্ত আইএসআই চরদের চিহ্নিত করতে তৎপর হয়েছেন গোয়েন্দারা। ধৃতকে জেরা করে ‘জেডি’ নামে এক ব্যক্তির হদিশ মিলেছে, যা কোনো ছদ্মনাম বা বড় কোডের সংক্ষিপ্ত রূপ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রানাকে জেরা করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ তপসিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মহম্মদ ইজাজ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। সেও তপসিয়ারই বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ইজাজ ছিল রানার প্রধান ‘শাগরেদ’ বা সহযোগী। ইজাজ একাধিকবার কাঠমান্ডু যাতায়াত করেছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। বাংলাদেশে নতুন কোনো মডিউল বা গুপ্তচর নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা ছিল কি না এবং এর নেপথ্যে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা জানতে ধৃতদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

