উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতে ফের বড়সড় ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বিভিন্ন মন্ত্রক সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলি পুনর্গঠন (Parliament standing committee) করার প্রক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের হাত থেকে শেষ চেয়ারম্যানের পদটিও চলে গেল। এতদিন এই নির্দিষ্ট কমিটির চেয়ারপারসনের দায়িত্বে ছিলেন কীর্তি আজাদ। সাম্প্রতিক এই রদবদলে সেই গুরুত্বপূর্ণ সার ও রাসায়নিক বিষয়ক স্থায়ী কমিটির শীর্ষ দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের (Kakoli Ghosh Dastidar) হাতে। রাজনৈতিক মহলের অন্দরে এই পরিবর্তন নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল শুরু হয়েছে, কারণ কাকলি দেবী সম্প্রতি তৃণমূল ত্যাগ করে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন।
খাতায়-কলমে এই সমস্ত সাংসদরা এখনও তৃণমূল শিবিরের সঙ্গেই যুক্ত থাকলেও, তাঁদের অন্য দলেই গণ্য করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে এনসিপিআই-তে নাম লেখানো এই দলীয় সাংসদদের যাতে কোনো স্ট্যান্ডিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা না হয়, সেই মর্মে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনকে চিঠি দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন জানিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। একই সঙ্গে দলে লোকসভায় যে কোটায় একটি স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ বরাদ্দ ছিল, তা বহাল রাখার অনুরোধও করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সমস্ত আর্জি নাকচ করে দিয়েই দলবদলকারী সেই বিশ জন সাংসদের মধ্য থেকেই কাকলি ঘোষদস্তিদারকে এই পদের দায়িত্ব অর্পণ করা হলো। এর জেরে উচ্চপর্যায়ের এই কমিটিগুলিতে মমতা শিবিরের কোনো প্রতিনিধি আর চেয়ারম্যান পদে রইলেন না।
দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় কাকলি ঘোষদস্তিদার জানান, স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানের গুরুদায়িত্ব রয়েছে। জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে কীরকম কাজ হচ্ছে দেখা। এক কমিটিটা সার, রাসায়নিক সংক্রান্ত। ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান। এখানে বহু অংশে কৃষক এই সার ব্যবহার করেন। সেক্ষেত্রে দেশের স্বার্থে কাজ করতে পারাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অধ্যক্ষ মহাশয়, প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেছেন বলেই দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। মানুষের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে কাজ করব।
অন্যদিকে, এই গোটা প্রক্রিয়াটিকে সম্পূর্ণ অনৈতিক ও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বলে তোপ দেগেছেন সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, এটা হওয়ারই কথা ছিল। যাঁরা ওদিকে চলে গিয়েছে, তাঁদের কোনোরকম শাস্তি বা কিছুই করবে না বর্তমান সরকার। ডিলিমেটশনের জন্য তাঁদের সন্তুষ্ট করার জন্য যে অনৈতিকভাবে এটা দেওয়া হবে, তা জানাই ছিল। এটা করা উচিত নয়।

