প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: মুম্বইয়ে আত্মগোপন করে থেকেও মিললো না রেহাই। বীরভূমের তৃণমূল নেতা তথা বড়শাল পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান ভাদু শেখকে খুনের ঘটনার (Vadu Sk homicide case) চার বছর বাদ অন্যতম অভিযুক্ত মাসাদ শেখকে মুম্বই থেকে গ্রেপ্তার করল সিবিআই (Masad Sk arrested)। বীরভূমের রামপুরহাট থানার বগটুই গ্রামে তার বাড়ি। শুক্রবার মুম্বইয়ের ডংরি থানার ওয়াদিবন্দরের টোবাকো গলি এলাকা থেকে সিবিআই তাকে গ্রেপ্তার করে (CBI Mumbai raid)। মাসাদ শেখকে জালে পোরার পর সিবিআই গত শুক্রবার তাকে মুম্বইয়ের আদালতে পেশ করে। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতকে পশ্চিমবঙ্গে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ’ট্রানজিট রিমান্ডের’ আবেদন জানায় সিবিআই। সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে মুম্বই আদালত। তাকে রাজ্যে এনে ১৫ আগষ্ট বর্ধমানের সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। সিজেএম ধৃত মাসাদ শেখকে বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে সোমবার তৃতীয় জেলা ও দায়রা আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের ২১ মার্চ বগটুই মোড়ের কাছে চায়ের দোকানের সামনে মোবাইলে কথা বলছিলেন ভাদু শেখ। সেই সময় বাইকে চেপে এসে কয়েকজন তাঁর উপর হামলা চালায়। বোমার আঘাত ও গুলি লেগে গুরুতর জখম হন ভাদু। রামপুরহাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ভাদু শেখের মৃত্যু নিয়ে তাঁর ভাই বিকির আলি স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে ভাদু শেখ খুন হওয়ার পর ওই রাতেই অশান্ত হয়ে ওঠে ‘বগটুই’ গ্রাম (Birbhum violence)। সেখানকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। তাতে শিশু ও মহিলা সহ ১০ জনের মৃত্যু হয় (Bogtui bloodbath)। এনিয়ে পৃথক একটি মামলা রুজু হয়। দু’টি কেসের তদন্তভার সিটের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই দু’টি মামলারই তদন্তভার নেয়। তদন্তে নেমে সিবিআই ভাদু শেখ খুনের মামলায় পলাশ খান ওরফে ফইজল খান, সঞ্জু শেখ ওরফে নূর ইসলাম শেখ, সফি শেখ ও মাহী শেখের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ২০ জুন পরিকল্পনা করে খুন, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের ধারায় চার্জশিট পেশ করে। পরে ১৩ নভেম্বর সোনা শেখ, ছোট লালন শেখ ওরফে কামরুল শেখের বিরুদ্ধে প্রথম অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করে। ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নিউটন শেখ ওরফে আসামুল হক, মসাদ শেখ ও শেরা শেখের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। পরে দু’টি মামলাই হাইকোের্টর নির্দেশে রামপুরহাট আদালত থেকে বর্ধমান আদালতে স্থানান্তরিত হয়। ২০২৪ সালের ৬ জুন সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আদালত। মসাদকে ঘোষিত অপরাধী ঘোষণা করে আদালত।
গণহত্যার এই মামলাটি এখনও বর্ধমানের চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে চলছে। ২৭ জনের নামে সিবিআই চার্জশিট পেশ করেছে। তার মধ্যে দুই অভিযুক্ত মারা গিয়েছে। ২২ জন আগে ধরা পড়ে। কয়েকমাস আগে রোহন শেখ ওরফে কিসমত শেখকে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট থেকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। রোহন বগটুই কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত লালন শেখের ছেলে। সিবিআই হেপাজতে থাকাকালীন লালনের রহস্য মৃত্যু হয়। চার্জশিটে নাম থাকা ২৩ জন ধরা পড়লেও দু’জন এখনও ধরা পড়েনি।

