এম আনওয়ারউল হক, বৈষ্ণবনগর : মাদক পাচার মামলায় অভিযুক্ত জেলবন্দি এক তরুণ রবিবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বসলেন। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কালিয়াচক থানার সাহাবাজপুরের বাসিন্দা ওই তরুণের বিরুদ্ধে ব্রাউন সুগার পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি মালদা জেলা সংশোধনাগারে বন্দি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে জেল পুলিশ এদিন তাঁকে মালদা মডেল মাদ্রাসায় পরীক্ষার জন্য নিয়ে আসে। পরীক্ষা শেষ হলে ফের তাঁকে সংশোধনাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযুক্ত সাহাবাজপুর হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন ও পরে বিহারের ভাগলপুর তিলকা মাঝি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ও এমএ পাশ করেছিলেন। রবিবার এডুকেশন বিষয়ে তিনি পরীক্ষা দিয়েছেন। এদিন সকাল থেকে চারজন জেল পুলিশ তাঁকে কড়া পাহারায় সংশোধনাগার থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে আসেন। হঠাৎ পুলিশ দেখে অন্য পরীক্ষার্থীরা অনেকেই প্রথমে খানিকটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশেই অভিযুক্ত পুলিশি পাহারায় পরীক্ষা দিচ্ছেন শুনে সকলেই নিশ্চিন্ত হন। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান এবিষয়ে বলেন, ‘আমরা কমিশনের নিয়ম মেনেই পরীক্ষা পরিচালনা করেছি। আদালতের নির্দেশে জেল পুলিশের পাহারায় ওই পরীক্ষার্থীকে বসানো হয়েছে। পরীক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার জন্য আমরা সচেষ্ট ছিলাম।’
এদিকে ছেলে পরীক্ষা দিতে পারায় ওই অভিযুক্তের বাবা অত্যন্ত খুশি। তাঁর বক্তব্য, ‘আমার ছেলে বরাবরই পড়াশোনায় ভালো ছিল। কিন্তু ভুল সঙ্গের কারণে হয়তো অনেক ভুল করেছে। এখন পড়াশোনা করে শিক্ষক হয়ে সমাজে নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে চায় সে।’ এদিকে এদিন ওই কেন্দ্রে বহু চাকরিহারা পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছিলেন। যদিও একজন দাগি পরীক্ষার্থী আসেননি। অন্যদিকে, বারাণসী থেকে অভিমন্যু সিং যাদব, গোরক্ষপুর থেকে গুলশান প্রসাদ, অযোধ্যা থেকে সবিতা মিশ্রের মতো অনেক ভিনরাজ্যের পরীক্ষার্থী ওই কেন্দ্রে এসেছিলেন। অভিমন্যু জানান, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এদিন তিনি পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। তবে তাঁর কথায়, ‘হঠাৎ পুলিশের পাহারায় কাউকে পরীক্ষা দিতে দেখে প্রথমে একটু অবাক হয়েছি।’ অন্যদিকে সবিতা জানান, এভাবে একসঙ্গে পুলিশ পাহারায় কাউকে পরীক্ষা দিতে দেওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করা সত্যিই ব্যতিক্রমী।
