Samsi | ১৪ বছর বাংলাদেশে কাটিয়ে চাঁচলের নাজমুল ফিরছেন বাড়িতে, খুশির হাওয়া পরিবারে

Samsi | ১৪ বছর বাংলাদেশে কাটিয়ে চাঁচলের নাজমুল ফিরছেন বাড়িতে, খুশির হাওয়া পরিবারে

ব্লগ/BLOG
Spread the love


সামসী: ১৪ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মানসিকভাবে অসুস্থ চাঁচলের (Chanchal) ইসলামপুর গ্রামের নাজমুল হককে বাংলাদেশ থেকে বাড়িতে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন দক্ষিণ মালদার সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। অবশেষে ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ভারত সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছেন যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই, বা তারও আগে নাজমুল হককে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে। এই খবরটি চাউর হতেই পরিবারে খুশির হাওয়া।

দীর্ঘ কয়েক মাস প্রশাসনিক বিলম্বের পর অবশেষে নাজমুল হকের ভারতীয় নাগরিকত্ব ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ হয়। তার সমস্ত তথ্য বিদেশ মন্ত্রকের NSV পোর্টালে আপলোড করা হয়। ফলে অনেক আগেই নাজমুল হক নিজের দেশে ফিরে আসতেন, কিন্তু সিস্টেমেটিক বিলম্বতার কারণে তিনি এখনও ভারতে আসতে পারলেন না।

মানসিকভাবে অসুস্থ এই ভারতীয় নাগরিক যিনি আজ থেকে ১৪ বছর আগে তাঁর গ্রাম,পরিবার ও দেশ থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অজানা ঠিকানায় জীবন কাটানোর পর, ১৭ ডিসেম্বর তাঁর দেশে ফেরার লড়াইয়ে পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ান মালদা দক্ষিণের মাননীয় সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। তাঁর উদ্যোগে ২৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখ নাজমুল হকের যাবতীয় তথ্য সংবলিত চিঠি পাঠানো হয় ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব ও বিদেশ মন্ত্রীর কাছে। ইশা খান চৌধুরী নিজে সংসদে এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। নাজমুল ১৪ বছর ধরে বাংলাদেশের কুল্লিমায় রয়েছেন। বাংলাদেশের এক ব্লগে সামাজিক মাধ্যমে নাজমুলের ছবি ভাইরাল হয়। সেই ছবি দেখে পরিবারের লোকেরা হারানো ছেলেকে চিনতে পারেন। অবশেষে সাংসদের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রকের সহযোগিতায় নাজিমুলের দেশে ফেরা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

এ প্রসঙ্গে ইশা খান চৌধুরী (MP Isha Khan Choudhury) জানান, ‘নাজিমুলকে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে লিখিত আবেদন করেছিলাম। নাজমুল যে ভারতীয় নাগরিক তার প্রমানপত্র ভেরিফিকেশনের জন্য বিভাগীয় দপ্তরেও পাঠানো পাঠিয়েছিলাম। সে ফিরলে আমার লড়াই সম্পূর্ণ হবে। এই লড়াই মানবিকতার, এই লড়াই ন্যায়ের। খুব শীঘ্রই নাজমুল বাড়ি ফিরবেন।’

নাজমুল হকের বাড়ি মালদা জেলার চাঁচল থানার ইসলামপুর গ্রামে। বাবা মারুফ আলি জানান, ‘নাজমুল ছোট থেকে সামান্য মানষিক ভারসাম্যহীন। মাঝে মধ্যেই বাড়ি থেকে এদিকে ওদিকে চলে যেত। বহুবার খোঁজখবর নিয়ে ফিরিয়ে আনি। ২০১১ সালে একদিন আবারও বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। বহুবার খোঁজ খবর নিয়েও তার সন্ধান পায়নি। এভাবেই ১৪ বছর কেটে গেছে। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো ছেলে মারা গেছে। মাস ছয়েক আগে প্রতিবেশীরা ফেসবুকে ছেলের ছবি দেখতে পেয়ে তা দেখাতে বাড়িতে ছুটে আসেন। ছবি দেখেই চিনতে পারি। আরও জানতে পারি সে এখন বাংলাদেশের কুল্লিমা জেলায় রয়েছে। মোল্লা সিয়াম নামে বাংলাদেশের এক ব্লগার সামাজিক মাধ্যমে আমার ছেলের ছবি ভাইরাল করেছিল। তার সঙ্গেও যোগাযোগ করে। ভিডিও কল করে ছেলের সঙ্গে কথাও বলিয়ে দেন। এরপর ছেলেকে ফেরত আনতে জেলার সমস্ত আধিকারিকদের কাছে ছুটে গিয়েছি। জেলাশাসকের কাছেও আবেদন জানিয়েছিলাম। সবাই জানিয়েছিলেন তাঁরা চেষ্টা করছেন। কিন্তু তৎপরতা দেখতে পাচ্ছিলাম না। এরপর দেখলাম সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর উদ্যোগে বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে পরিযায়ী শ্রমিক আমির শেখকে ফিরিয়ে আনা হয়। তারপর আমি দেখা করেছিলাম সাংসদ ইশা খানের সঙ্গে। উনি আশ্বাস দিয়েছিলেন ছেলেকে দেশে ফেরাতে তিনি চেষ্টা করবেন। এখন জানতে পেরেছি এক সপ্তাহের মধ্যেই নাজমুলকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা হবে। সেই দিনটার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। সাংসদ ইশা খানের এহেন উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাই।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *