উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ কলকাতার রাজপথে নিট (NEET) কেলেঙ্কারি ও ছাত্র আন্দোলনের জেরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তাপ এবার আইনি সংঘাতে রূপ নিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বিতর্কিত ও বিকৃত ছবি প্রদর্শনের অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনায় সরাসরি টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের (Sreelekha Mitra) বিরুদ্ধে আনন্দপুর এবং বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, অবিলম্বে অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
গত ২৪ জুলাই ধর্মতলা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নিট পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হাঙ্গামা ও সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটে। সেই প্রতিবাদ কর্মসূচিতেই উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
অভিযোগ উঠেছে, ওই মিছিলে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি আপত্তিকর ও বিকৃত পোস্টার প্রকাশ্যে প্রদর্শন করেন অভিনেত্রী। বিষয়টি নজরে আসতেই তীব্র আক্রমণ শানায় বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, আন্দোলনের নামে এই ধরনের অশালীন আচরণ এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ২০২৩-এর একাধিক কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে:
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২০২৩ (বিএনএস) ৩৫২ ধারায় ইচ্ছাকৃত কারও ভাবমূর্তি বা মর্যাদা নষ্ট করার অভিসন্ধি যা দেশের শান্তি বিঘ্নিত করে। ৩৫৩ ধারায় প্রকাশ্যে উসকানিমূলক তথ্য প্রদর্শন বা আচারণ করে জনরোষের সৃষ্টি করা। ১৯ (১)(২) ধারায় সংবিধান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অনুমতি দিলেও তা শর্তসাপেক্ষ। ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃত মানহানির জন্য ভাবমূর্তি নষ্ট।
- ধারা ৩৫২: ইচ্ছাকৃতভাবে কারও ভাবমূর্তি বা মর্যাদা নষ্ট করার অভিসন্ধি, যা জনশান্তি বিঘ্নিত করতে পারে।
- ধারা ৩৫৩: প্রকাশ্যে উসকানিমূলক তথ্য প্রদর্শন বা আচরণ করে জনরোষ সৃষ্টি করা।
- ধারা ১৯ (১)(২): সংবিধান শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার দিলেও শর্ত লঙ্ঘন করার অভিযোগ।
- ধারা ৩৫৬: ইচ্ছাকৃত মানহানি।
বিজেপির নেত্রী কেয়া ঘোষ আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি অভিনেত্রীকে ‘টুকরে গ্যাং’-এর সঙ্গে যুক্ত বলে তীব্র আক্রমণ করেছেন। এছাড়া বিধাননগর সাইবার থানাতেও অভিযোগ জানিয়ে শ্রীলেখার দ্রুত ও জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারির দাবি তুলেছে বিজেপি।
নিজের সাফাইয়ে শ্রীলেখা আরও জানান, সেই মুহূর্তে তাঁর চোখে রোদচশমা ছিল এবং পুলিশি লাঠিচার্জের জেরে প্রচণ্ড হুলুস্থুল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাড়াহুড়ো করে কোনোমতে একটি ছোট পোস্টার হাতে তুলে নেন তিনি। পোস্টারে ঠিক কী ছবি বা বিষয়বস্তু রয়েছে, তা খেয়াল করার মতো পরিস্থিতি বা সময় তাঁর ছিল না বলে দাবি করেছেন অভিনেত্রী।
গ্রেপ্তারির ভয়ে তিনি বিন্দুমাত্র ভীত নন জানিয়ে উলটো শাসক শিবির ও প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

