উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রথম ম্যাচে দুর্বল কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে আটকে গিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল প্রাক্তন বিশ্বজয়ী স্পেনকে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াল তারা। রবিবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিপক্ষ সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের ছেলেরা (Spain vs Saudi Arabia)। আর এই জয়ের রাতে স্প্যানিশ ফুটবল প্রেমীদের আশ্বস্ত করল ১৯ বছরের তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালের (Lamine Yamal) ম্যাজিক।
প্রথম ম্যাচের ধাক্কা সামলে এই ম্যাচে প্রথম একাদশে একাধিক বড় বদল আনেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। চোটের সমস্যা পুরোপুরি না কাটলেও দলের স্বার্থে এদিন ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামালকে শুরু থেকেই মাঠে নামিয়ে দেন কোচ।
পুরো ম্যাচ খেলার মতো ১০০ শতাংশ ফিটনেস হয়তো ছিল না, গতি বাড়াতেও কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল ইয়ামালের। কিন্তু মাঠে নামতেই বুঝিয়ে দিলেন কেন তাঁকে স্পেনের ভবিষ্যৎ বলা হচ্ছে। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের প্রথম গোলটি তুলে নেন তিনি। মাঝমাঠ থেকে অ্যালেক্স বায়েইনার পাস ধরে নিখুঁত পাস বাড়ান মিকেল ওয়ারজাবাল। সৌদি রক্ষণ ও গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে সেকেন্ড পোস্টে চকিতে পা ছুঁইয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ইয়ামাল।
ইয়ামালের গোলের পর ম্যাচের রাশ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় স্পেন। এদিন মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের বোঝাপড়া ছিল দেখার মতো। ম্যাচের অন্যতম নায়ক মিকেল ওয়ারজাবাল (Mikel Oyarzabal) নিজে দুর্দান্ত দুটি গোল করে সৌদির ঘুরে দাঁড়ানোর সব রাস্তা বন্ধ করে দেন।
অন্যদিকে, ম্যাচের ৪৯ মিনিটে আরও একধাপ এগিয়ে যায় স্পেন। মার্ক কুকুরেয়ার একটি বিপজ্জনক হেড ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন সৌদির ডিফেন্ডার হাসান আলতামবাক্তি। এই আত্মঘাতী গোলের পর ম্যাচের স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০। এরপর সৌদি আরব ব্যবধান কমানোর কিছু চেষ্টা করলেও স্পেনের জমাট রক্ষণের সামনে তা ভেস্তে যায়।
সৌদি আরবকে এই বড় ব্যবধানে হারানোর ফলে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টিকে থাকার লড়াইয়ে অক্সিজেন পেয়ে গেল স্পেন। তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচ আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে এই তরুণ স্প্যানিশ আর্মাডা কতটা বেশি ইয়ামালের ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। নক-আউটের বড় ম্যাচগুলোর আগে ইয়ামাল যাতে পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠেন, এখন সেটাই হবে কোচ দে লা ফুয়েন্তের প্রধান লক্ষ্য।

