উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ প্রথমার্ধে একের পর এক সহজ সুযোগ নষ্টের খতিয়ান। তা দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচ বুঝি হাতছাড়া হতে চলেছে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের জাত চেনাল এশীয় ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea vs Czechia)। চেকিয়ার বিরুদ্ধে একসময় পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের রুদ্ধশ্বাস জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেন সন হিউং মিনেরা। তবে ম্যাচ জিতলেও স্ট্রাইকারদের গোল নষ্টের প্রদর্শনী আগামী ম্যাচগুলোর আগে কোরিয়ান শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ বজায় রাখল।
ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা আগ্রাসী মেজাজে মাঠে নেমেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। মাঝমাঠের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে রেখে একের পর এক আক্রমণ শানাতে শুরু করেন সন হিউং মিনেরা। অন্য দিকে, ইউরোপের দেশ চেকিয়া শুরু থেকেই কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে প্রতি আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলার চেষ্টা করছিল।
প্রথমার্ধে কোরিয়া অন্তত ৪টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে। চেকিয়ার গোলরক্ষক কোভারও প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে অন্তত দু’বার নিশ্চিত পতন থেকে রক্ষা করেন দলকে। ফলে আক্রমণের ঝড় তুলেও প্রথমার্ধে গোলের খাতা খুলতে পারেনি কোরিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু হতেই রণকৌশল বদলে কোরিয়ান ডিফেন্সের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করে চেকিয়া। আর তার ফলেই ম্যাচের ৫৯ মিনিটে খেলার গতির বিপরীতে গিয়ে গোল পেয়ে যায় তারা।
- চেকিয়ার লিড (৫৯ মিনিট): ছ’গজের বক্সের মধ্যে কোউফালের একটি লম্বা থ্রো থেকে চমৎকার হেডে চেকিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অধিনায়ক ক্রেজসি।
- লি কাং-ইনের সমতা (৬৮ মিনিট): গোল খাওয়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে কোরিয়া। ৬৮ মিনিটে হোয়াং ইন বেয়মের ডিফেন্স চেরা পাস ধরে প্রতিপক্ষের দুজন ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ছিটকে দিয়ে জালে বল জড়ান লি কাং। দেশের জার্সিতে এটিই তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল।
- বাতিল গোল ও জয়সূচক গোল (৭৯ মিনিট): ৭৬ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে চেকিয়া পুনরায় জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এর ঠিক ৩ মিনিট পর, অর্থাৎ ৭৯ মিনিটে কোরিয়ার হয়ে জয়সূচক মহামূল্যবান গোলটি করেন হোয়াং ইন বেয়ম। এই গোলেই ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত হয় কোরিয়ার।
উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ লাল কার্ডের বিশ্বরেকর্ড! বিতর্কিত রেফারি সাম্পাইয়ো
কোরিয়ার ম্যাচের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের নাটকীয়তাও। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে মেক্সিকো টুর্নামেন্ট শুরু করলেও, ম্যাচটি কুখ্যাতি পেয়েছে ব্রাজিলের রেফারি উইল্টন সাম্পাইয়োর বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার উদ্বোধনী কোনো ম্যাচে ৩ জন ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখানো হলো (দক্ষিণ আফ্রিকার দুজন এবং মেক্সিকোর একজন)। ২০০৬ সালের পর্তুগাল বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো একটি ম্যাচে এতজন ফুটবলার লাল কার্ড দেখলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্পাইয়ো অন্তত দুটি লাল কার্ড এমন দেখিয়েছেন, যেখানে কার্ড না দিলেও চলত।
