উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মালভিয়া নগরের হোটেল ট্র্যাজেডির ক্ষত এখনও দগদগে। তার সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল দেশের রাজধানী শহর (Delhi Hearth)। শুক্রবার ভোররাতে দিল্লির তুঘলকাবাদের (Tughlakabad) গোবিন্দপুরী এলাকার (Govindpur) একটি বহুতল আবাসিকে আগুন লেগে শ্বাসরুদ্ধ ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক তরুণ ও দুই মহিলাসহ মোট তিনজনের। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। প্রশাসন সূত্রে খবর, আহত বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোররাতে যখন ওই বহুতল আবাসিকের বাসিন্দারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, ঠিক তখনই আচমকা বিল্ডিংটিতে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। প্রাণভয়ে চিৎকার শুরু করেন বাসিন্দারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশ এবং দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন।
দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) হেমন্ত তিওয়ারি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভোররাতে খবর পেয়ে তাঁদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করে প্রথমে আটজনকে জীবন্ত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ২২ বছরের এক তরুণ এবং দুই মহিলার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
দমকল বাহিনীর কয়েক ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় সকালের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে স্বস্তির বিষয় এটাই যে, বহুতলের ভেতরে এখনও বেশ কিছু আবাসিক আটকে থাকলেও দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তৎপরতায় তাঁরা আপাতত সুরক্ষিত ও বিপদমুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মইয়ের সাহায্যে নামিয়ে আনার কাজ চলছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও দমকল বাহিনীর অনুমান, বহুতলটির ওয়্যারিংয়ে শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে বহুতলটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ওই আবাসনের মালিক এবং বর্তমান আবাসিকদের পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।
উলেখ্য, গত সপ্তাহেই দিল্লির মালভিয়া নগরের একটি হোটেলে বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছিল ২১ জনের। সেই মৃতদের তালিকায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি সহ বিদেশি পর্যটকও ছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গোবিন্দপুরীর এই পুনরাবৃত্তি দিল্লির বহুতল ভবনগুলির অগ্নি-সুরক্ষা বিধি নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।
