পারথ: মাঝে একটা দিন। রবিবার ওডিআই সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচ। আর পাঁচটা অস্ট্রেলিয়া-ভারত দ্বৈরথের মতো আগ্রহ প্রত্যাশিত। পারদ আরও চড়িয়েছে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার প্রত্যাবর্তন। রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শেষবার খেলার আবেগও। দলগত সাফল্যের পাশে হাজারো, লাখো চোখ অপেক্ষায় ‘রোকো’ জুটি পারফরমেন্সের দিকে।
প্রস্তুতি, নেট সেশন ইঙ্গিত হলে ছন্দে থাকার বার্তা বিরাটের। বৃহস্পতিবার ঐচ্ছিক প্র্যাকটিস সেশন ছিল। আজ পুরোদস্তুর অনুশীলন। মধ্যমণি সেই কোহলি। গা ঘামানো থেকে শুরু। অপটাস স্টেডিয়ামের অনুশীলনে যতক্ষণ ছিলেন, ততক্ষণ প্রাণশক্তির চেনা বিরাটকে পাওয়া গেল। দেখে বোঝার উপায় নেই, সাত মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছেন। বিরাট স্পর্শে অজি সফরে প্রথম পুরোদস্তুর প্রস্তুতিতে চনমনে বাকি দলও।
প্র্যাকটিস দেখতে মাঠে হাজির অত্যুৎসাহী কিছু সমর্থক যার স্বাদ চেটেপুটে নিলেন। শুরুতে ফিল্ডিং প্র্যাকটিস। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে বল মারা। লক্ষ্যভেদ করলেই সতীর্থদের সঙ্গে একেবারে সেলিব্রেশন মোডে বিরাট। বল ধরা এবং নিমেষে বল রিলিজে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, ছত্রিশেও বিশ্বের অন্যতম ফিট ক্রিকেটার।
ফিল্ডিং ড্রিলের মাঝে অধিনায়ক শুভমান গিলের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথাও বললেন। এরপর যশস্বী জয়সওয়াল, অক্ষর প্যাটেলদের সঙ্গে হাসিঠাট্টা। ব্যাটিং অনুশীলনে আজ বেশি খেললেন স্পিনারদের। গতকাল মূলত পেস এবং শর্টপিচ ডেলিভারি সামলেছিলেন। ম্যাচ পরিস্থিতির মতো করে শ্রেয়স আইয়ার এবং বিরাট ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যাটিং করলেন এক নেটে। পাশে নেটে শুভমান। সব মিলিয়ে মিনিট পঁয়তাল্লিশের সেশন রবিবাসরীয় ম্যাচের জন্য শান দিয়ে নিয়ে মাঠ ছাড়েন বিরাট।
নজর কাড়লেন ‘রোগাপাতলা’ রোহিতও! গত কয়েক মাসে বাড়তি মেদ ঝরিয়েছেন। ফিটনেস নিয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে পরিশ্রম করেছেন ‘বন্ধু’ তথা ভারতীয় দলের প্রাক্তন সহকারী কোচ অভিষেক নায়ারের তত্ত্বাবধানে। শুধু দশ কেজির মতো ওজন কমাননি, জোর দিয়েছেন ফিটনেসে। ফিল্ডিং প্র্যাকটিসে রোহিতের ছটফটানিতে তারই প্রতিফলন। গতি বেড়েছে দৌড়ে।
এদিকে, প্র্যাকটিসের পর মাঠের ধারে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অক্ষর। আত্মবিশ্বাসী গলায় যেখানে বলেছেন, ‘২০১৫ সালের পর এখানে অনেক কিছুই বদলেছে। অতীতে অস্ট্রেলিয়া পা রাখলেন পিচ, কন্ডিশন, বাউন্স নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হত। কিন্তু এখন সেই অনুভূতি নেই। আলাদা কিছু মনে হয় না। এখন আমাদের ভাবনাজুড়ে মূলত থাকে নিজেদের টিম কম্বিনেশন, স্ট্র্যাটেজি। পিচ, বাউন্স নিয়ে এখন সেভাবে কথা হয় না।’
প্রথমবার অধিনায়ক হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সফর। অক্ষরের বিশ্বাস, রোহিত, বিরাটের উপস্থিতিতে শুভমান গিলকে সাহায্য করবে। বলেছেন, ‘রোহিতভাই, বিরাটভাই রয়েছে। গিলের জন্য যা অ্যাডভান্টেজ। দুই প্রাক্তন অধিনায়কের থেকে প্রয়োজনীয় ইনপুট পাবে। অধিনায়ক শুভমানকে আরও পরিণত করবে। ইতিমধ্যেই অধিনায়ক হিসেবে ছাপ রেখেছে। সবচেয়ে ভালো দিক হল, কখনও চাপে পড়ে না। আর রোহিতভাই, বিরাটভাই বিশ্বসেরা প্লেয়ার। ওরা জানে, কোন পরিস্থিতি কীভাবে সামলাতে হয়। মাঝে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকলেও ওরা দুজনেই পুরোদস্তুর প্রস্তুত, এই নিয়ে কোনও সংশয় নেই।’
প্রথম একাদশে অক্ষরের থাকা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন কিন্তু থাকছে। অজি পিচে বাড়তি স্পিনারের পথে ভারত না হাঁটলে, অগ্রাধিকার পাবে রবীন্দ্র জাদেজা। যদিও স্পিন-অলরাউন্ডার অক্ষর এসব নিয়ে ভাবছেন না। জানিয়ে দিলেন, বছর তিনেক পর (২০২২ টি২০ বিশ্বকাপ) অস্ট্রেলিয়ায় খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন। প্রস্তুত যে কোনও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে।
