উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: অবশেষে নাটকীয় মোড় দিল্লির যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ মঞ্চে। টানা ২০ দিন ধরে চলা আমরণ অনশনের পর, ২১তম দিনের ভোরে পরিবেশবিদ তথা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk) তুলে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং ‘নিট’ (NEET) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনে বসেছিলেন ৫৯ বছর বয়সী এই সমাজকর্মী।
গত কয়েকদিন ধরেই ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছিল। চিকিৎসকদের বুলেটিন অনুযায়ী, অনশনের কারণে তাঁর ওজন অনেকটাই কমে গিয়েছে। গতকালই চিকিৎসকরা সতর্ক করেছিলেন যে, যেকোনো মুহূর্তে তাঁর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল (Organ Failure) হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে হস্তক্ষেপ করে স্পষ্ট জানিয়েছিল, “দেশের প্রতিটা নাগরিকের জীবন মূল্যবান।” ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্য কেন্দ্র ও পুলিশকে নির্দেশ দেয় আদালত।
হাইকোর্টের সেই নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শ মেনেই শনিবার কাকভোরে যন্তর মন্তরে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ যখন ওয়াংচুককে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার চেষ্টা করে, তখন অন্যান্য আন্দোলনকারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সামান্যউত্তেজনার সৃষ্টি হলেও, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “মাননীয় হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষার্থেই তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।” একইসঙ্গে বাকি আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তর খালি করার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলনের মাধ্যমে এই প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজিৎ দিপকে। ‘নিট’ প্রশ্নফাঁসের নৈতিক দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশনে শামিল হন সোনম ওয়াংচুক। গত দু-দিনে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ডিম্পল যাদব এবং পবন খেরার মতো বিরোধী শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতা যন্তর মন্তরে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন এবং অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এই আন্দোলনকে “উচ্ছৃঙ্খল উপাদানগুলির বি-টিম” বলে কটাক্ষ করেছেন। আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথমদিনে আন্দোলনকারীরা সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছেন। তবে তার আগেই ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় দিল্লির রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

