উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: অবশেষে স্বস্তি! বিগত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে কারাবন্দি থাকা বীরভূমের বাসিন্দা অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন এবং তাঁর সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া আরও ৫ জনের জামিন মঞ্জুর করেছে বাংলাদেশের আদালত। সোমবার চাঁপাই নবাবগঞ্জের আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে এদিন সন্ধ্যায় তাঁরা জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এ বার কি তাঁদের ভারতে ফেরানো হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সোমবারই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ এসেছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত থেকে। এদিন সোনালিদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে কেন্দ্রের সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
উল্লেখ্য, সোনালি খাতুনের বাবা ভদু শেখের দায়ের করা মামলার শুনানি ছিল সোমবার। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ কেন্দ্রকে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, মানবিকতার খাতিরে সোনালি খাতুন-সহ বাকিদের ভারতে ফেরার অনুমতি দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট এও পরামর্শ দিয়েছে যে, প্রয়োজনে তাঁদের ওপর নজরদারি চালানো এবং হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করা হোক। কেন্দ্রীয় সরকারও এ বিষয়ে আদালতে সম্মতি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, বীরভূমের পাইকর এলাকার বাসিন্দা সোনালি ও সুইটি বিবি-সহ মোট ৬ জনকে গত জুন মাসে দিল্লি থেকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তাঁর পরিবারের দাবি, সোনালির কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ নথি রয়েছে। ২০ অগাস্ট চাঁপাই নবাবগঞ্জের পুলিশ তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও রুজু হয়। তারপর থেকেই তাঁরা চাঁপাই নবাবগঞ্জ সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সোনালি-সহ ৬ জনকেই ৪ সপ্তাহের মধ্যে ভারতে ফেরাতে হবে। কিন্তু সেই রায়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকার ২২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল। গত শুনানিতে শীর্ষ আদালত কার্যত সোনালির ভারতীয় নাগরিকত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছিল।
সোনালী খাতুনদের আইনি লড়াইয়ে সহায়তা করছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। এদিন দুই দেশের আদালতের নির্দেশকে তিনি ‘বড় জয়’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর অভিযোগ, বাঙালি-বিরোধী মানসিকতা থেকেই বিজেপি তাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল। এটা নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য ধাক্কা। তিনি আরও জানান, সোনালিদের নিরাপদে ভারতে ফিরিয়ে না-আনা পর্যন্ত তাঁদের এই আইনি লড়াই চলবে।
বাংলাদেশের আদালত থেকে জামিন এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এখন সবার নজর কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের দিকে। দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন-সহ বাকিদের দেশে ফেরা কত তাড়াতাড়ি সম্ভব হয় সেটাই এখন দেখার।
