উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক ও কঠোর পদক্ষেপ নিল ব্রিটিশ সরকার (UK)। অস্ট্রেলিয়ার আদলে ১৬ বছরের কমবয়সি শিশুদের (Beneath-16s) জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা (Social Media Ban) জারি করল ব্রিটেনের কিয়ের স্টার্মার সরকার। মূলত শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী (Keir Starmer)।
অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার পর ব্রিটেন বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে এই পথে হাঁটল। সরকারি সূত্রে খবর, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, রেডিট, টুইচ, এক্স, থ্রেডস, ফেসবুক এবং কিকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসছে। ব্রিটিশ সরকার কেবল সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, পাশাপাশি গেমিং অ্যাপগুলিতে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে শিশুদের যোগাযোগ বন্ধ করা এবং লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করার পরিকল্পনাও নিয়েছে। এমনকি, আগামী মাসে কিশোর-কিশোরীদের জন্য ‘সোশ্যাল মিডিয়া কার্ফিউ’ বা নির্দিষ্ট সময়ের পর ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হতে পারে।
সম্প্রতি এই বিষয়ে তিন মাসের একটি সরকারি পরামর্শপর্ব শেষ হয়, যেখানে ১ লক্ষ ১৬ হাজার মানুষ তাঁদের মতামত জানান। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অংশগ্রহণকারী ৯০ শতাংশ অভিভাবকই এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে এবং ৮৩ শতাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার ঝুঁকির তুলনায় তার উপযোগিতা অত্যন্ত নগণ্য।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেন, ‘বর্তমান সময়ে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছি। বর্তমান যে ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে, তা ভেঙে ফেলে শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।’
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও করেছেন অনেক সমাজকর্মী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। তাঁদের মতে, এই ধরনের সামগ্রিক বিধিনিষেধ অনেক সময় নতুন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে ব্রিটেন।
