উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ স্বামী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এনসিপিআই (NCPI) দলে নাটকীয় যোগদানের পর চব্বিশ ঘণ্টাও কাটেনি। তাঁর অনুগামী আরও ১৯ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদকে নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনডিএ (NDA)-কে সমর্থনও জানিয়েছেন সুদীপ। এই আবহে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, সুদীপের পথ অনুসরন করে তাঁর স্ত্রী তথা চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ও কি এবার ঘাসফুল শিবির ছাড়ছেন? সোমবার সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে খোদ নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় (Nayna Bandyopadhyay TMC) সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসেই আছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকবেন। দলনেত্রীর প্রতি নিজের প্রশ্নাতীত আনুগত্য প্রকাশ করে কুণাল ঘোষদের পাল্টা জবাব দিলেন এই তারকা বিধায়ক।
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি চিরকাল নিজের নেত্রী মেনে এসেছেন এবং সেটাই তাঁর রাজনীতির শেষ কথা। দল ছাড়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন,“আমি দৃঢ়ভাবে দিদির সঙ্গেই আছি। তিনি আমাকে ছেড়ে যেতে পারেন, কিন্তু আমি তাঁকে ছেড়ে যাব না। যাঁকে আমি আমার দুর্গা বলে ডেকেছি, তাঁকে কীভাবে ছেড়ে যেতে পারি? দিদি আমাকে ছেড়ে যেতে পারেন, কিন্তু আমি কোনওদিন তাঁর পাশ ছেড়ে যাব না।”
রবিবার সন্ধেয় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলবদলের খবর ও বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের জল্পনা সামনে আসতেই নয়নাকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নয়নাকে ‘ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লার’ বলে কটাক্ষও করেছিলেন তিনি। দলের একাংশ দাবি করেছিল, নয়নার শিবির বদল এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
সহকর্মীদের এই ধরণের আক্রমণকে যে তিনি মোটেও ভালোভাবে নেননি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন চৌরঙ্গীর বিধায়ক। ক্ষোভ প্রকাশ করে নয়না জানান, “দলের কিছু সহকর্মীর ব্যক্তিগত আক্রমণে আমি মারাত্মক কষ্ট পেয়েছি। এই বিষয়ে আমি ইতিমধ্যেই আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।”
এদিকে রবিবার দিল্লিতে তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ নিয়ে নতুন দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI) গঠন করার পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর স্ত্রীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মুখ খুলেছেন। সুদীপ জানান, তিনি নয়নাকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু নয়না তাঁর সিদ্ধান্ত বদলাননি। তিনি তৃণমূলেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়।
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে সুদীপবাবু যুক্তি দেন, একই পরিবারে থেকেও ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ বা পৃথক দলে রাজনীতি করার একাধিক দৃষ্টান্ত ভারতীয় রাজনীতিতে রয়েছে। ফলে তিনি নতুন দলে যোগ দিলেও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের একনিষ্ঠ বিধায়ক হিসেবেই কাজ করে যাবেন।
