Snow Leopard | পাহাড়ে জাপানের স্নো লেপার্ড আনার তোড়জোড়! দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় জিনগত বৈচিত্র্য আনতে কোন বড় উদ্যোগ?

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: সাইবেরিয়ান টাইগারের পর আবার বিদেশ থেকে প্রাণী আনার উদ্যোগ নিল দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক (Padmaja Naidu Himalayan Zoological Park)। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জিনগত বৈচিত্র্য আনতে আন্তর্জাতিক অ্যানিমাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের ওপর জোর দিয়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তরফে এই আবেদন জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (জেডএসআই)-র সহযোগিতায় দার্জিলিং চিড়িয়াখানার প্রাণীদের জেনোম গবেষণা করা হয়েছে। সেখানে উঠে এসেছে যে, একটি নির্দিষ্ট আবদ্ধ পরিবেশে দীর্ঘদিন একই বংশের প্রাণীদের মধ্যে প্রজনন চললে ‘ইনব্রিডিং ডিপ্রেশন’ দেখা দেয়। ফলে প্রাণীদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রজনন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য দার্জিলিং চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নতুন ব্লাডলাইন আনার চেষ্টা করছে। সেকারণে জাপানের সঙ্গে অ্যানিমাল এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তুষার চিতা বা স্নো লেপার্ড (Snow Leopard) আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেডএসআই ও প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন (সিডব্লিউএলডব্লিউ)-এর কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়া গেলেও ভারত সরকারের অনুমোদন বাকি রয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রাণী বিনিময় প্রোগ্রামের মাধ্যমে জাপান থেকে মাদি স্নো লেপার্ড আনার আবেদন জানানো হয়েছে। এর পরিবর্তে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা থেকে একটি মাদি স্নো লেপার্ড জাপানে পাঠানো হবে।

রেড পান্ডা, স্নো লেপার্ডের মতো সংকটাপন্ন প্রজাতির প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে দার্জিলিং চিড়িয়াখানার সাফল্য বিশ্বমানের। তবে প্রজননের পর এই প্রজাতিগুলির স্বাস্থ্য দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখতে দেশের বাইরে থেকে নতুন ব্লাডলাইন আনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। কারণ চিড়িয়াখানায় যে ১৩টি স্নো লেপার্ড রয়েছে, এই সবকটি সিকিম ব্লাডলাইনের।

এ ব্যাপারে দার্জিলিং চিড়িয়াখানার এক আধিকারিক বলছেন, ‘এক জিনগত বৈশিষ্ট্যের প্রাণীর সঙ্গে বাইরে থেকে আসা নতুন জিনগত বৈশিষ্ট্যের প্রাণীর প্রজনন ঘটালে জিনগত মিশ্রণ ঘটে, যা প্রজাতির প্রাকৃতিক বিবর্তন ও অভিযোজন ক্ষমতায় সাহায্য করে। এভাবে জন্মানো পরবর্তী প্রজন্ম শারীরিকভাবে অনেক বেশি স্বাস্থ্যবান এবং রোগপ্রতিরোধী হয়ে ওঠে।’

আবদ্ধ পরিবেশে প্রজননের পর প্রাণীদের যখন অন্য কোনও চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাদের জিনগতভাবে শক্তিশালী হওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে, যাতে তারা যে কোনও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে পারে।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় উন্নত জিন ব্যাংককে আরও মজবুত করার জন্য চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তরফে জোরকদমে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে সাইপ্রাস থেকে দার্জিলিংয়ে সাইবেরিয়ান বাঘ আনা হয়েছিল। সেন্ট্রাল জু অথরিটি ও রাজ্য বন দপ্তরের উদ্যোগে অন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় চিড়িয়াখানাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন আরও ব্লাডলাইনের প্রাণী আদান-প্রদানের প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *