কোচবিহার: সাপ কামড়ানোর পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রোগী আসাই স্বাভাবিক (Snake Chew)। কিন্তু সাপ কামড়ানোর পর সেই সাপটিকেই জীবন্ত অবস্থায় ধরে কৌটোবন্দি করে হাসপাতালে নিয়ে এলেন রোগীর পরিজনরা। বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রোগীর পরিজনদের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তে অসচেতনতার অভিযোগ তুলেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
নিশিগঞ্জের বাসিন্দা আনারুল হক নামে এক ব্যক্তি কাঠের পাতি সরানোর কাজ করার সময় একটি সাপের কামড় খান। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আনারুলকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর পরিবার। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকদের বুঝতে সুবিধা হবে যে কী সাপ কামড়েছে, তাই তাঁরা সাপটিকে জীবিত অবস্থাতেই ধরে কৌটোতে বন্দি করে নিয়ে এসেছেন। আক্রান্ত আনারুল হক জানান, হাত দিয়েই সাপটি তাঁকে কামড়ায়। তাঁর দাদার কথায়, সাপটিকে দেখেই তাঁরা ধরে ফেলেছিলেন।
চিকিৎসকরা এই ধরণের আচরণে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, সাপ কামড়ালে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত। সাপ ধরার জন্য সময় নষ্ট করা বা ঝুঁকি নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক, এতে বিষ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা লক্ষণ দেখেই চিকিৎসা করেন, তাই সাপ আনার কোনও প্রয়োজন নেই।
এর আগেও এমজেএন মেডিকেল কলেজে এক ব্যক্তি মৃত সাপ নিয়ে এসেছিলেন। এবার জীবন্ত সাপ নিয়ে আসার ঘটনায় চাঞ্চল্য বহুগুণ বেড়ে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাপটিকে বনদপ্তরের হাতে তুলে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, সাপ কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে শান্ত রেখে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসতে হবে। সাপ ধরার চেষ্টা করে অযথা মূল্যবান সময় নষ্ট না করাই কাম্য।

