শীতলকুচি: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে কোচবিহারের শীতলকুচির পাঠানটুলি গ্রামে তৃণমূল নেতার অস্বাভাবিক মৃত্যু (Sitalkuchi TMC chief dying) ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার গোলেনাওহাটি অঞ্চল কমিটির কার্যকরি সভাপতি যোগেন বর্মনের ঝুলন্ত দেহ তাঁর শোবার ঘর থেকে উদ্ধার হয়।
পরিবারের দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই স্থানীয় বিজেপি (BJP) কর্মীরা যোগেনবাবুকে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছিলেন। মৃতের পুত্রবধূ তথা তৃণমূলের (TMC) পঞ্চায়েত সদস্য তাপসী বর্মনের অভিযোগ, বিজেপি নেতারা তাঁর শ্বশুরের কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা দাবি করেছিলেন। জরিমানা মেটানোর জন্য জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলেও চরম মানসিক চাপে ছিলেন যোগেনবাবু। যদিও বিজেপির শীতলকুচি বিধানসভার কনভেনর কনক চন্দ্র বর্মন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, পরাজয়ের হতাশাতেই ওই নেতা আত্মঘাতী হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় এই পাঠানটুলি গ্রামেই আনন্দ বর্মন নামে এক বিজেপি কর্মীর খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এলাকা। তৃণমূল নেতা যোগেন বর্মনের মৃত্যুতে সেই পুরোনো ক্ষত আবারও টাটকা হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গিরিন্দ্রনাথ বর্মন জানান, যোগেন বর্মন মনে প্রাণে তৃণমূল কংগ্রেসের সৈনিক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারকে সমবেদনা জানাই। এই মৃত্যুর পেছনে কি কারণ রয়েছে শীতলকুচি থানার পুলিশ সঠিক তদন্ত করে বের করুক। গ্রামেগঞ্জে তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের হুমকি দেওয়া, হাট-বাজার আসা বন্ধ করে দেওয়া, ব্যক্তিগত শত্রুতা রাজনৈতিক আঙিনায় এনে প্রতিশোধ নেওয়া, জরিমানা নেওয়ার ঘটনা নজরে আসছে। বিষয়টি রাজ্যের শাসকদলের নেতাদের কঠোর হাতে দমন করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, শাসকদল চাইলেই এসব বন্ধ করতে পারবে।
