বুল নমদাস, শীতলকুচি: গভীর রাতে পরিবারের কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। অসুস্থ মানুষটিকে কোলে তুলে নিয়ে যেতে হয় নদীর দিকে। কারণ অ্যাম্বুল্যান্স তো দূর, একটা চার চাকার গাড়ি ঢোকারও উপায় নেই গ্রামে। ভরসা বলতে নদীর মাঝে ফেলে রাখা কয়েকটা হিউমপাইপের ওপর তৈরি এক নড়বড়ে সাঁকো। এক পা ফসকালেই বিপদ। ঠিক এভাবেই প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে বুড়া ধরলা নদী পার হচ্ছেন কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকের (Sitalkuchi) খলিসামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনারচালুন গ্রামের বাসিন্দারা।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, এই দুর্ভোগ ঘোচাতে গত ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট বা ১৫ বছরের তৃণমূল— কোনও সরকারই সদিচ্ছা দেখায়নি। একটা পাকা সেতু তো দূর, নিদেনপক্ষে একটা কালভার্ট তৈরিতেও কারও দৃষ্টি পড়েনি। তবে আশার আলো দেখা গিয়েছিল বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে। সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে কালভার্ট তৈরির কথা বলে নদীর মাঝে কয়েকটি হিউমপাইপ বসানো হয়েছিল। কথা ছিল, ভোটের পর সংযোগকারী রাস্তা তৈরি সহ কালভার্টের বাকি কাজ শেষ করা হবে। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই যেন সব হিসেব ওলট-পালট হয়ে গিয়েছে। থমকে গিয়েছে কাজ, সেই সঙ্গে এলাকার মানুষের মনে দানা বেঁধেছে কালভার্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন। তবে শীতলকুচির বিধায়ক সাবিত্রী বর্মন পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এদিকে, বর্ষা শুরু হতেই বুড়া ধরলার জলস্তর বেড়ে যায়। নদী ফুলেফেঁপে ওঠায় বেশ কয়েকদিন ওই পথে যাতায়াত কার্যত বন্ধই ছিল। স্থানীয় সূত্রে খবর, পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষে এলাকার বিজেপি কর্মীদের উদ্যোগে ওই পাইপের ওপরই একটি সাঁকোর বন্দোবস্ত করা হয়। এখন সাইকেল বা বাইক নিয়ে কোনওরকমে যাতায়াত চললেও, অন্য কোনও যানবাহন এই সাঁকো দিয়ে চলতে পারে না। নদীর পাড়েই কথা হচ্ছিল স্থানীয় বাসিন্দা নির্মল বর্মনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বুড়া ধরলা নদী পারাপার করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমরা যাতায়াতের যন্ত্রণা ভোগ করছি। কিন্তু এতদিনেও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হল না।’ তাঁর কথায় সায় দিলেন হরিশ বর্মন সহ উপস্থিত আরও অনেকেই। তাঁরা জানালেন শুধু সোনারচালুন নয়, পার্শ্ববর্তী মধুসূদন, বোচামারি, নীলাহাটি ও রতনপুর এলাকার প্রচুর মানুষ প্রতিদিন এই নদী পেরিয়ে যাতায়াত করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে এলাকার স্কুল পড়ুয়ারাও। তাই নদী পারাপারের এই সমস্যা দ্রুত দূর করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কল্পনা বর্মনের আশ্বাস, ‘বর্ষার পরই কালভার্টের বাকি কাজ শুরু করা হবে।’

