সিতাই: উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কোচবিহারের সিতাই এলাকা (Sitai protest)। গত তিন দিন ধরে স্থানীয় সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার (Jagadish Chandra Barma Basunia) বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিজেপি (BJP) কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ। প্রতিবাদের পারদ চড়িয়ে মঙ্গলবার সরাসরি সাংসদের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তাঁরা। বিক্ষোভের চূড়ান্ত পর্বে জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া এবং সঙ্গীতা রায়ের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়, যার জেরে পুরো এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
দিনভর চলা এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে স্থানীয় সিতাই বেসিক স্কুলের প্রাঙ্গণ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। বিক্ষোভকারীদের এই মিছিলটি সিতাইয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করে শেষ পর্যন্ত সোজা গিয়ে হাজির হয় সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার বাড়ির সামনে। সম্ভাব্য অশান্তি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক ছিল প্রশাসন। সেই কারণে সাংসদের বাসভবনের সামনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।
বিক্ষোভকারীরা সাংসদের বাড়ির সামনে পৌঁছানোর পর প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে অভিনব ও আক্রমণাত্মক পন্থা বেছে নেন। জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া ও সঙ্গীতা রায়ের কুশপুত্তলিকায় ঝাড়ু দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং জুতোর মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। এর পরেই জনসমক্ষে সেই কুশপুত্তলিকোগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, দাহকার্য চলার সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশকে ‘বল হরি হরি বোল’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। এমনকি আগামী ‘১৩ দিন পর শ্রাদ্ধশান্তি করা হবে’ বলেও কটূক্তিমূলক ও তীব্র আক্রমণাত্মক স্লোগান ওঠে আন্দোলনকারীদের মুখ থেকে।
সাংসদ নিজের বাড়িতে ফিরে আসার পর থেকেই সিতাইয়ে তাঁর বিরোধিতায় রাজনৈতিক তর্জা তুঙ্গে উঠেছে। গত তিন দিন ধরে চলা এই বহুমুখী বিক্ষোভের জেরে স্থানীয় স্তরে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে না পড়ে, তার জন্য মঙ্গলবারও সাংসদের বাসভবনের চারপাশের চত্বরে কঠোর পুলিশি পাহারার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা কড়া নজরদারি চালিয়ে গিয়েছেন।

