উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সামনেই নির্বাচন, আর তার আগে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR In west Bengal) নিয়ে বড়সড় কৌশলগত পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যজুড়ে ঢালাওভাবে সময়সীমা না বাড়িয়ে, এবার ‘মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট’-এর ওপর জোর দিচ্ছে সিইও (CEO) দপ্তর। যে সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচুর সংখ্যক মানুষের নাম তোলা বা সংশোধনের শুনানি (Election Fee listening to) বাকি রয়ে গেছে, কেবল সেই নির্দিষ্ট পকেটগুলোতেই সময়সীমা বাড়ানোর ভাবনা চিন্তা করছে কমিশন।
জেলাশাসকদের ‘ডেডলাইন’ ও কমিশনের নতুন কৌশল গৎবাঁধা নিয়মে গোটা রাজ্যের জন্য সময় বাড়ানোর বদলে, কমিশন এবার সমস্যার মূলে পৌঁছতে চাইছে। শুক্রবারের মধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক তথা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের (DEO) কাছে জরুরি রিপোর্ট তলব করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, জেলাভিত্তিক গড়পড়তা রিপোর্ট নয়, চাই বিধানসভা ভিত্তিক বা ‘অ্যাসেম্বলি স্পেসিফিক’ তথ্য। অর্থাৎ, ঠিক কোন কোন বিধানসভা কেন্দ্রে শুনানির কাজ শ্লথ বা প্রচুর কেস পেন্ডিং রয়েছে, তা চিহ্নিত করাই এখন কমিশনের পাখির চোখ।
কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই মালদা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জনবহুল জেলাগুলি থেকে শুনানির সময়সীমা বাড়ানোর জন্য সিইও দফতরে আবেদন জমা পড়েছে। এই জেলাগুলির বেশ কিছু বিধানসভায় চাপ অত্যধিক থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্রের খবর, এই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে কমিশন সর্বোচ্চ দু’থেকে তিন দিন শুনানির সময়সীমা বাড়াতে পারে। তবে তা সবার জন্য নয়, কেবল পিছিয়ে পড়া ওই নির্দিষ্ট বিধানসভাগুলির জন্যই প্রযোজ্য হবে।
আগামিকাল, অর্থাৎ শনিবারই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে এই ‘এক্সটেনশন’ বা বাড়তি সময় দেওয়ার ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পূর্বনির্ধারিত দিনক্ষণ পিছিয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুনানি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনের প্রস্তুতিতে যাতে কোনো ফাঁক না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই বাড়তি সময়ের পথে হাঁটতে চলেছে কমিশন।
