ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার: ছয় সন্তানের জন্ম দেওয়া যে কতটা ঝক্কির তা এই বাবারা আজকাল পরিষ্কার বুঝতে পারছেন। এই জন্মদাতারা এখন নির্বাচন কমিশনের ‘নজরে’ পড়ছেন। কারও ছয় বা তার বেশি সন্তান থাকলেই কমিশন বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছে বলে অভিযোগ। এই বাবাদের পাশাপাশি ছেলেদের ডেকে এসআইআর-এর নোটিশ (SIR Discover) ধরানো হচ্ছে। খাতায়-কলমে যাঁকে বাবা হিসেবে দেখানো হয়েছে, তিনি সত্যিই বাবা কি না, তা প্রমাণ করতে বলা হচ্ছে। কমিশন যেন হঠাৎ করে পারিবারিক অঙ্ক কষতে বসেছে বলে অনেকেই মুচকি হাসছেন। এই প্রক্রিয়ায় খোদ বিএলও-রাও বাদ যাচ্ছেন না। ছয় বা তার বেশি ভাই থাকলেই বিএলও-রাও নোটিশ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election Fee) কোনও বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফালাকাটার এক বিএলও জানান, তিনি এতদিন অন্যদের নোটিশ ধরিয়েছেন। এখন আরেক বিএলও তাঁর হাতে নোটিশ তুলে দিয়েছেন। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তাঁরা ছয় ভাই। বাবার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য থাকায় সমস্যাটা আরও জটিল হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আসলে কী করতে চাইছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিএলএ-১ সৌরভ চক্রবর্তী বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা তথ্যগত অসংগতির নামে কমিশন বাড়াবাড়ি করছে।’ চার বা ছয় সন্তানের বাবাদেরও নোটিশ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। কমিশনের নিজের ভুলের খেসারত সাধারণ ভোটারদের দিতে হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তাই কমিশন ঘেরাও করা হবে না কেন, সেই প্রশ্নও তিনি তুলেছেন। বিজেপি অবশ্য বিষয়টি নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্চ করেনি। দলের জেলা অফিস সম্পাদক শংকর সিনহা বলেন, ‘কমিশনের কাজে আমরা হস্তক্ষেপ করি না। তবে অভিযোগ থাকলে তা নির্দিষ্ট জায়গায় জানানো হবে।’
এদিকে জানা গিয়েছে, চার বা ছয় সন্তানের জন্মদাতা হলে এবং নাম ভোটার তালিকায় থাকলেই নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। আলিপুরদুয়ার জেলায় এমন বাবা ও ছেলেদের সংখ্যা কয়েক হাজার। হিন্দু ভোটারদের পাশাপাশি সংখ্যালঘুদেরও বেশি নোটিশ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসআইআর-এর গুঁতোয় জীবিত বা মৃত বাবাদের পরিচয় জোগাড় করতেই এখন ব্যস্ত সন্তানরা। নির্বাচন কমিশনের এক সূত্রে খবর, ছয় সন্তানের জন্ম স্বাভাবিক নয় বলে তাদের ধারণা। ম্যাপিংয়ের জন্য একজনকে পিতা দেখিয়ে একাধিক নাম তোলার অভিযোগ উঠেছে। এক আধিকারিক বলেন, ‘আর্থিক সংকটে আজকাল এক সন্তান ঠিকমতো মানুষ করাই কঠিন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ছয় সন্তানের বিষয়টি একটু সন্দেহজনক বৈকি!’
জেলা নির্বাচন দপ্তর সূত্রে খবর, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে আলিপুরদুয়ার জেলায় দুই লক্ষের বেশি মানুষ শুনানিতে ডাক পাচ্ছেন। এই তালিকায় কুমারগ্রাম, কালচিনি ও মাদারিহাট বিধানসভা এলাকায় সংখ্যাটা বেশি।
