শুভদীপ শর্মা, ক্রান্তি : ভোটার তালিকার ম্যাপিংয়ে নাম না মেলায় আতঙ্কে ক্রান্তি ব্লকের চাঁপাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের শতাধিক পরিবার। পশ্চিম সেঙ্গপাড়া ও দক্ষিণ চ্যাংমারি, এই দুই বুথের প্রায় ১,৬০০ ভোটার এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। বিএলওদের দেওয়া ফর্ম হাতে পেলেও ভোটাধিকার থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, ম্যাপিং-এর গরমিল কাটাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। বিজেপির তরফেও জানানো হয়েছে, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
ক্রান্তি ব্লকের চাঁপাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম সেঙ্গপাড়া ২০/২৬৮ নম্বর বুথে ভোটার সংখ্যা ১২৯১। পাশের গ্রাম দক্ষিণ চ্যাংমারির ২০/৬৯ নম্বর বুথে ভোটার সংখ্যা ১১৫০। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা ও ২০২৫ সালের সংশোধিত তালিকার ম্যাপিংয়ে দেখা গিয়েছে, পশ্চিম সেঙ্গপাড়ায় মাত্র ৪৫১ জন এবং দক্ষিণ চ্যাংমারিতে মাত্র ৩৪৯ জন ভোটারের নাম মিলছে। ২০০২-এর পর এখানকার বাকি ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় উঠলেও ২০০২-এর তালিকায় তাঁদের বাবা-মা কারও নাম নেই।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিএলও-রা গ্রামে গিয়ে ফর্ম বিলি শুরু করলে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় গ্রামবাসীদের মধ্যে। সেঙ্গপাড়ার কৃষক প্রতাপ বিশ্বাস বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই ভোটার তালিকায় নাম তুলেছি। এখন ম্যাপিংয়ে নাম না মেলায় কী করব বুঝতে পারছি না।’ আরেক কৃষক খোকন দাসের কথায়, ‘এখানেই জন্ম, এখানেই চাষ করে সংসার চালাই। এখন ভোটার তালিকা থেকে নাম উধাও। আগামীতে কী হবে বুঝে উঠতে পারছি না।’
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের ক্রান্তি ব্লক সভাপতি মহাদেব রায় ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পঞ্চানন রায় এলাকা পরিদর্শনে যান। পঞ্চানন রায়ের বক্তব্য, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই এই সমস্ত গ্রামবাসীরা নাম তুলেছিলেন। যদি কোথাও ভুল থেকে থাকে, সেটি কমিশনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি।’ মহাদেব রায় বলেন, ‘দলের নির্দেশে আমরা প্রত্যেক গ্রামবাসীর পাশে আছি। তাঁদের নাম তালিকায় তুলতে সবরকম সহযোগিতা করা হবে।’
বিজেপির মাল মণ্ডল পাঁচের সভাপতি দীপক ওরাওঁ জানান, যাঁদের নাম ম্যাপিংয়ে মিলছে না, তাঁরা অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সিএএ অনুযায়ী আবেদন করলেই ভোটার তালিকায় নাম উঠে যাবে। তবে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনেই সেই কাজ করতে হবে।
