SIR | মহা ‘ফ্যাসাদে’ শাসক নেতারা, এসআইআর নিয়ে ভিড় বাড়ছে অফিসে, বাড়িতে

SIR | মহা ‘ফ্যাসাদে’ শাসক নেতারা, এসআইআর নিয়ে ভিড় বাড়ছে অফিসে, বাড়িতে

শিক্ষা
Spread the love


সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সোমবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) (SIR) ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার থেকে সেই প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গিয়েছে। এই আবহে সাধারণ মানুষের মনে একাধিক প্রশ্ন জাগ্রত হচ্ছে। অনেকেই এসআইআরের পুরো বিষয়টি ধাতস্থ করার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক দলগুলিও বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া জটিয়াকালী, ফুলবাড়ি এলাকাগুলিতে দেখা যাচ্ছে এক অন্য ছবি। রাজ্যের শাসকদলের নেতাদের দেখলেই সেখানকার বাসিন্দারা একাধিক প্রশ্ন করছেন। যার উত্তর দিতে গিয়ে একপ্রকার ‘নাজেহাল’ অবস্থা ওই এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নেতাদের।

সকাল-বিকাল, ঘরে-বাইরে যেখানেই নেতাদের দেখছেন সেখানেই প্রশ্ন উঠছে, বিএলও এলে কোন কাগজ দেখাব? তাছাড়া কাগজ দেখালেই কাজ হবে তো? বুধবার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগেই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ব্লক তৃণমূল সভাপতি দিলীপ রায়ের বাড়িতে ফুলবাড়ির সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জমায়েত করেন। প্রশ্ন একটাই, পুরোনো কাগজপত্র নেই। সেক্ষেত্রে কী হবে? দল পাশে রয়েছে এই বাক্যে আশ্বস্ত করতে পেরে কার্যত হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন দিলীপ। এদিকে, পার্টি অফিসে পৌঁছোতে না পৌঁছোতেই সেখানে হাজির বেশ কয়েকজন। তাঁদেরও সেই একই প্রশ্ন।

দিলীপ বলেন, ‘বাড়িতে, পার্টি অফিসে অনেকে আসছেন। এখন শুধু তৃণমূলের ওপর মানুষের ভরসা রয়েছে। শুধু আশ্বস্ত করে মানুষদের ছাড়ছি না, তাঁদের পাশে আমরা থাকছি। প্রতিটি বুথে আমাদের দলের নেতা-কর্মীদের বাসিন্দাদের পাশে থাকতে বলেছি।’

বাংলাদেশে সীমান্ত লাগোয়া ফুলবাড়ি, জটিয়াকালী এলাকাগুলি বাংলাদেশের নাগরিকে ছেয়ে গিয়েছে বলে অতীতে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত পেরিয়ে এই এলাকায় এসে পরিচয়পত্র বানানো, স্থায়ী আস্তানা তৈরি করেছেন এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এরই মধ্যে বুধবার জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকায় বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। এই অঞ্চলে বসবাসকারী অনেকেই ২০০২ সালের পর বাংলাদেশ থেকে এদেশে এসে ভোটার কার্ডের পাশাপাশি অন্যান্য পরিচয়পত্র বানিয়েছেন বলে অভিযোগ।ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রফিকুল ইসলামের কাছে এলাকার মানুষের ভিড় বাড়ছে। এসআইআর নিয়ে এলাকার অনেক মানুষ যে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সে কথা স্বীকার করে নিয়েছেন রফিকুলও। তাঁর কথায়, ‘সকলকে একই জবাব দিতে হচ্ছে। এলাকার মানুষদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। তবে তারপর কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তা থাকেই। আমরা সকলের পাশে রয়েছি, সেই কথা বারে বারে বলছি।’

এদিকে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন তৃণমূল নেতারা। তাঁর কথায়, ‘বাংলাদেশি, রোহিঙ্গাদের এখানে নিয়ে এসে তৃণমূল ভোটব্যাংক বানিয়েছে। যারা অবৈধ ভোটার তাদের নাম কাটা যাবে। আর এতে তৃণমূল নিজেদের ভোটব্যাংক নষ্ট হওয়ার ভয়ে ভুগছে। তাই তারা বৈধ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *