রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: পাড়ায় শিবির করে সেখান থেকেই ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের ফর্ম বিলি করছেন বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। কোথাও আবার বিএলও নয়, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি অর্থাৎ বুথ লেভেল এজেন্টই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিয়ে আসছেন।
যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন বলেছে, বাড়ি বাড়ি এসে বিএলও-রা ফর্ম দিয়ে যাবেন। অথচ আমাদের বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম ফেলে ক্যাম্পে গিয়ে ফর্ম নিতে হচ্ছে। এই ঘটনাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় বিতর্ক ছড়ায়। এসআইআর (SIR) নিয়ে মানুষ এতটাই চিন্তায় যে, সমস্ত কাজকর্ম ফেলে বিএলও’র খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন।
এই ব্যাপারে জলপাইগুড়ির জেলা শাসক শামা পারভিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। জলপাইগুড়ির সদর মহকুমা শাসক তথা মহকুমা নির্বাচন আধিকারিক তমোজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘এই সংক্রান্ত বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করুন।’
গত মঙ্গলবার থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি হিসাবে বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি এসআইআর ফর্ম নিয়ে যাচ্ছেন। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী বিএলও-রা বাড়িতে গিয়ে সেই বাড়ির ভোটারদের প্রত্যেককে দুটি করে ফর্ম দেবেন। সেই ফর্মগুলি কীভাবে পূরণ করতে হবে, সেখানে কোন কোন তথ্য থাকা বাধ্যতামূলক- এই সমস্ত কিছুই ভোটারকে জানাতে হবে। ফর্ম পূরণ করা হয়ে গেলে বিএলও আবার ওই বাড়িতে এসে একটি ফর্ম গ্রহণ করবেন অপরটিতে সই করে ভোটারকে দিয়ে দেবেন। কিন্তু ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকায় বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ছবি ধরা পড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে এই বিধানসভার জলেশ্বরী, পশ্চিম হাতিয়াডাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, বিএলও টেবিল-চেয়ার পেতে রীতিমতো ক্যাম্প করে ফর্ম বিলি করছেন। সেখানে কোথাও বিজেপি, কোথাও তৃণমূলের এজেন্ট আবার কোথাও সাধারণ মানুষও চেয়ারে বসে ভোটার তালিকা থেকে নাম বের করা, এসআইআর ফর্ম দেওয়া, ভোটারদের সই করানোর কাজ করছেন। কিন্তু এভাবে ক্যাম্প করে তো ফর্ম দেওয়ার কথা–ই নয়। আপনার তো বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে। কথা শেষ না হতেই বিএলও সান্ত্বনা রায় বললেন, ‘এখানে বসে ফর্ম দিলে সমস্যা কোথায়? আপনি মানুষকে এসব বলে কাজ নষ্ট করছেন।’ বিএলও’র ওই বক্তব্য শুনে তাঁকে ঘিরে থাকা ভোটাররাও বলতে শুরু করেন, ‘হ্যাঁ দিদিমণি আপনার তো বাড়ি বাড়ি গিয়েই ফর্ম দেওয়ার কথা। এভাবে রাস্তায় বসে ফর্ম দিচ্ছেন কেন? আমরা কাজ নষ্ট করে সারাদিন আপনার এখানে দাঁড়িয়ে থাকব?’
আবার এখানকার ১৯/৫৬ নম্বর বুথের বিএলও আসবেন বলে বাসিন্দারা সকাল থেকে নিমতলা মাঠে বসে রয়েছেন। দুপুর গড়িয়ে গেলেও বিএলও আসেননি। একজন বললেন, বিএলও সকালে শ্যাওড়াতলায় বসে কিছু ফর্ম দিয়েছেন। সেখান থেকে আমাদের এখানে আসার কথা ছিল। কিন্তু বেলা দেড়টা পর্যন্ত আসেননি। পরে বিএলও সুজন রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিকেলে ওই এলাকায় গিয়ে ক্যাম্প করে সবাইকে ফর্ম দিয়েছি।’ কিন্তু বাড়ি বাড়ি যাননি কেন? তাঁর জবাব, ‘বাড়িতে গিয়ে লোকজনকে পাওয়া যাচ্ছে না। সময় নষ্ট হচ্ছে। অথচ পাড়ার একটা জায়গায় বসলে সেখানে প্রচুর মানুষ ভিড় করে ফর্ম নিচ্ছেন।’
অভিযোগ, গোটা ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে একটি করে এসআইআর ফর্ম দেওয়া হচ্ছে। যা নিয়ে সাধারণ মানুষ তো বটেই বিএলও-রাও ক্ষুব্ধ। এই বিধানসভার অধীনে থাকা পুরনিগমের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু জায়গায় শাসকদলের লোকজন ক্যাম্প করে ফর্ম দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে, ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দুলাল দত্তের বক্তব্য, ‘দলের কেউ ফর্ম দিচ্ছে না, দিনভর বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাসিন্দাদের অনেককে বিএলও পাচ্ছেন না। পরে তাঁদের এক জায়গায় ডেকে ফর্ম দিচ্ছেন। তবে এখানে একটি করে ফর্ম দেওয়ায় মানুষের প্রচণ্ড হয়রানি হচ্ছে।’
