শিলিগুড়ি: শহরের বুকে গজিয়ে ওঠা বেআইনি হোর্ডিং (Unlawful Hoardings) ও নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে শিলিগুড়ি পুরনিগম (Siliguri Municipal Company)। আর সেই অভিযান (SMC Drive) ঘিরেই এবার প্রকাশ্যে চলে এল চরম নাটকীয়তা। খোদ পুর কমিশনারের উপস্থিতিতেই উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক বিজ্ঞাপন সংস্থার মালিকের বিরুদ্ধে। শুধু বাধাদানই নয়, পুরকর্মীদের দিকেই দুর্নীতির আঙুল তুলে প্রকাশ্য রাস্তায় কমিশনারের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়ান ওই ব্যক্তি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, শেষ পর্যন্ত ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করতে বাধ্য হয় পুর কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার, শিলিগুড়ির ব্যস্ততম সেবক রোড এলাকায়। একটি শপিং মলের সামনে পুর কমিশনার বীর বিক্রম রাইয়ের (Bir Bikram Rai) নেতৃত্বে অবৈধ হোর্ডিং খোলার কাজ চলছিল। ঠিক সেই সময়েই সেখানে উপস্থিত হন ধীরাজ গুপ্তা নামে এক অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সির মালিক। তিনি সরাসরি এই উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। কমিশনার বীর বিক্রম রাইয়ের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার জন্য পুর কমিশনার তাঁকে কড়া ভাষায় সতর্কও করেন। কিন্তু তাতেও দমে না গিয়ে পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনেও পুরনিগমের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন ওই এজেন্সি মালিক। ধীরাজবাবুর বিস্ফোরক অভিযোগ, শহরজুড়ে এই ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অবৈধ হোর্ডিংগুলোর নেপথ্যে খোদ পুরকর্মীদেরই একাংশের মদত রয়েছে। দিনের পর দিন তাদের প্রশ্রয়েই এই বেআইনি কারবার চলেছে। তাঁর দাবি, বর্তমান উচ্ছেদ অভিযানে চরম পক্ষপাতিত্ব করছে পুরনিগম। বাছবিচার না করেই হোর্ডিং ভাঙা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই চরম বিশৃঙ্খলা ও সরকারি কর্তব্যে বাধাদানের অভিযোগে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেয় শিলিগুড়ি পুরনিগম। পুরনিগমের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার জ্যোতির্ময় রায় শিলিগুড়ি থানায় ধীরাজ গুপ্তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ (এফআইআর) দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ির চানাপট্টির বাসিন্দা ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। একদিকে পুরনিগমের কড়া অবস্থান এবং অন্যদিকে ব্যবসায়ীর তোলা দুর্নীতির অভিযোগ— সব মিলিয়ে শিলিগুড়ির বুকে অবৈধ হোর্ডিং বিতর্ক আপাতত নয়া মোড় নিয়েছে।

