রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি (Siliguri) পুলিশ কমিশনারেটের ভোরের আলো থানার অন্তর্গত বন্ধুনগর এলাকায় একটি গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থার ফ্র্যাঞ্চাইজি নেওয়া শোরুমে ঢুকে ভাঙচুরে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ শুধুমাত্র মামলা রুজু করে দিয়েই ক্ষান্ত বলে ওই শোরুমের কর্ণধার বিশাল আগরওয়ালের অভিযোগ। মারধরের পাশাপাশি দুষ্কৃতীরা গাড়ি ভাঙচুর করছে বলে সিসি ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। মূল গেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তালা দিয়ে কর্মীদের ভেতরে আটকে রাখা হয়েছে সেই ফুটেজও রয়েছে। এরপরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করে বরং অভিযুক্তপক্ষের মিথ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শোরুমের কর্ণধারের বিরুদ্ধেই জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ৩ জানুয়ারি ঘটনার সময় পুলিশকে বারবার ফোন করা হলেও প্রায় তিন ঘণ্টা বাদে ভোরের আলো থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থল থেকে থানায় ফোন করে কোনও কাজ না হওয়ায় এসিপি, ডিসিপি এমনকি পুলিশ কমিশনারের দপ্তর পর্যন্ত ফোন করতে হয়েছে। তবেই পুলিশ সক্রিয় হয় বলে বিশালের দাবি।
অন্যদিকে, ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। গ্রেপ্তারের পর ধৃতদের আদালতে পাঠানো হলেও সেদিনই অবশ্য তাঁদের জামিন হয়ে যায়। তবে কি পুলিশ ইচ্ছে করেই এই ঘটনায় লঘু ধারায় মামলা দায়ের করেছিল বলে প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার রাকেশ সিংয়ের বক্তব্য, ‘ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জমি নিয়ে বিবাদ ছিল। সেটা আদালতে মেটাতে হবে। তাই বলে কেউ তো মারপিট করতে পারে না। পুলিশ আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করছে।’
শিলিগুড়ির বন্ধুনগর এলাকায় একটি গাড়ির শোরুম রয়েছে। ওই শোরুমের মালিকের দাবি শোরুম সংলগ্ন জমি তাঁর নামে রয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় এক ব্যক্তির দাবি ওই জমি তাঁর। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছে। ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। অভিযোগ, গত ৩ জানুয়ারি একপক্ষ এসে হঠাৎই শোরুমের মালিকের খোঁজ শুরু করে। তাঁকে সামনে না পেয়ে লাঠিসোঁটা হাতে যথেচ্ছ ভাঙচুর চালানো হয়। একাধিক গাড়ি, সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়। শোরুমের কর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। পাশাপাশি গেটে তালা মেরে কর্মীদের আটকে রাখা হয়। ঘটনার সময় একাধিকবার পুলিশে (West Bengal Police) ফোন করেও লাভ হয়নি। প্রায় ঘণ্টাতিনেক বাদে পুলিশ এসে তালা খুলে সংস্থার কর্মীদের উদ্ধার করে বলে অভিযোগ। সংস্থার কর্ণধার ঘটনার রাতেই ভোরের আলো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই অপর পক্ষও পালটা অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ, পুলিশ অপরপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে শোরুমে মালিকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে। কিন্তু যারা ভাঙচুর করল তারা পরের দিনই ছাড়া পেয়ে যাওয়ায় পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছে।
ওই শোরুমে ভারতীয় সেনার বিভিন্ন গাড়ি মেরামতির জন্যে পাঠানো হয়। উত্তর-পূর্বে একমাত্র এই শোরুমেই সেনার গাড়ি পাঠানো হয়। সেখানে সেনানাহিনীর আরও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম সজ্জিত গাড়িও আসে। গোটা ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তাও জড়িত রয়েছে। অভিযুক্ত পক্ষের রফিক হুসেনের বক্তব্য, ‘ওখানে আমার মায়ের নামে জমি রয়েছে। সেটা শোরুম কর্তৃপক্ষ দখল করে রেখেছে। সেটা ফিরিয়ে দিতে হবে।’
