পারমিতা রায়, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি শহরে (Siliguri) যেন উৎসবের আমেজ কেটে গিয়েও কাটছে না। দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছটপুজোর পর এবার জগদ্ধাত্রীপুজোর পালা। সেই যে গণেশপুজো থেকে শহরে উৎসবের মরশুম শুরু হয়েছিল, জগদ্ধাত্রীপুজো অবধি কিন্তু তা জৌলুস ধরে রেখেছে। আগে শহরে হাতেগোনা কয়েকটি জগদ্ধাত্রীপুজো হত। তাও ছোট করেই। তবে এখন তো জগদ্ধাত্রীপুজোর আয়োজনেও বড় বাজেট ও থিমের ঝলক। শহরের ডিজেল কলোনি থেকে শুরু করে কলেজপাড়ার পুজো দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। অনেকেই বেরিয়ে পড়েছেন ঠাকুর দেখতে। ঠিক যেন দুর্গাপুজো।
শহরের বাসিন্দা মিতালি পালের কথায়, ‘এখন জগদ্ধাত্রীপুজো দেখতে আর চন্দননগর যেতে হয় না। আমাদের শিলিগুড়ি শহরেও এখন অনেক বড় পুজো হচ্ছে।’
শিলিগুড়ি কলেজপাড়ার পুজোর এবছর পঞ্চম বর্ষ। এবছরের তাদের থিম ‘দ্বাদশ জোর্তিলিঙ্গ’। প্রতিমাতেও রয়েছে বিশেষত্ব। কারণ চন্দননগরের প্রতিমা ও সাজ দেখা যাবে এই পুজোতে। বাজেট রয়েছে প্রায় ১২ লক্ষ। প্রতিবছরের মতো এবছরও তারা বাজনা বা ঢাকিতেও নিয়ে এসেছে নতুনত্ব। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এবছর ধামসা-মাদল নয়, পুরীর কাঁসরঘণ্টা বাজানোর শিল্পীদের নিয়ে এসেছেন তাঁরা। মঙ্গলবার তাঁদের পুজোর উদ্বোধন হয়েছে। আর শুরুর দিনেই ছিল ঠাকুর দেখার ভিড়।
এদিন সন্ধ্যায় দেখা গেল অনেকেই হাতি মোড়ে দাঁড়িয়ে সুভাষপল্লির পুজোর জগদ্ধাত্রী প্রতিমা দেখছিলেন। কেউ কেউ আবার প্রতিমার ছবি ক্যামেরাবন্দি করছিলেন। এবছর তাঁরা নৈহাটির বড়োমা মন্দিরের অনুকরণে মণ্ডপসজ্জা করেছেন। প্রতিবছর বিশেষ পুজো করে থাকে আলিঙ্গন। শুধু পুজো নয় পুজো ঘিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। ঠাকুর দেখতে এসে অনেকেই সেই অনুষ্ঠান দেখতে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। পাতি কলোনির বাসিন্দা চিনু ঘোষ বলছিলেন, ‘সব পুজোতে যখন ঘুরি তখন জগদ্ধাত্রীপুজোতে না ঘুরলে কীভাবে হবে?’
শহরের বিগ বাজেটের পুজো যেমন হচ্ছে, তেমনই বেশ কয়েকটি অল্প বাজেটের পুজোও হচ্ছে। এদিন সপরিবার ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন গৌতম দাস। বলছিলেন, ‘এত সুন্দর সুন্দর পুজো হচ্ছে, না ঘুরলে কীভাবে হবে।’ বাণীমন্দিরের মাঠের পুজোতেও এদিন ছিল ভিড়। তাদের বানানো ডিজনিল্যান্ডের থিমের মণ্ডপ দেখে খুশি ছোট্ট শ্রেয়া গোপ। শ্রেয়ার কথায়, ‘দুর্গাপুজোতেও এমন দেখেছিলাম। খুব ভালো লাগছে।’ এদিন জগদ্ধাত্রীপুজো ঘিরে উৎসবমুখর ছিল গোটা শহর।
