শিলিগুড়ি: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অসমের (Assam) এক তরুণীকে শিলিগুড়ি (Siliguri) সংলগ্ন ফুলবাড়িতে এনে কার্যত ‘গৃহবন্দি’ করে রাখার পর তার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কাঞ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে এনজেপি (NJP) থানার পুলিশ। রবিবার সকালে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পৌঁছায় পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী।
মৃত তরুণীর নাম জীবন্তি হেমব্রম (২৮), বাড়ি অসমের বঙ্গাইগাও-এ। অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে পেশায় রাজমিস্ত্রি কাঞ্চু মিয়া (৪০) ওই তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফুলবাড়ির শান্তিপাড়ার বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর থেকেই তাকে ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। গত শুক্রবার বিকেলে অভিযুক্তের ঘর থেকেই জীবন্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত কাঞ্চুর বৌদি গলিজা খাতুন দাবি করেছেন, ওই তরুণীকে বাড়িতে এনে রাখার বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের অজানা ছিল। তিনি জানান, কাঞ্চু আগে তিনটি বিয়ে করেছিল, কিন্তু স্ত্রীরা তাকে ছেড়ে চলে যায়। এই তরুণীর বিষয়টি তারা জানতেন না।
অভিযুক্ত কাঞ্চুর বিরুদ্ধে আগেও মারামারির মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা খাতুন জানান, কাঞ্চুর সঙ্গে প্রতিবেশীদের সম্পর্কও মোটেও ভালো ছিল না। স্থানীয়দের মতে, অভিযুক্তের অতীত এবং এই রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
শনিবার রাতেই অভিযুক্ত কাঞ্চু মিয়াকে আটক করে পুলিশ। রবিবার স্থানীয়দের বিক্ষোভে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী। সোমবার ধৃতকে জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হবে।
