উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বয়সের ভার এবং রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে আগামী ২০২৮ সালের কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া (Siddaramaiah)। তবে সরাসরি নির্বাচনে না লড়লেও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ও কল্যাণের পক্ষে নিজের কণ্ঠস্বর জোরালোভাবে বজায় রাখবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।
শনিবার কর্ণাটকের (Karnataka) মান্ড্যা জেলার কে আর পেটে একটি বেসরকারি অনুষ্ঠানে নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খোলেন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির এই সদস্য। পরে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (X)-এ সেই বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
সিদ্দারামাইয়া জানান, মাইসুরুর বরুণা বিধানসভা কেন্দ্রের সাধারণ মানুষ তাঁকে আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অনুরোধ করছেন। তবে সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আর কোনো নির্বাচনে লড়ব না। একসময় যখন আমি নির্বাচন লড়েছিলাম, তখন এলাকার মানুষ আমাদের আর্থিকভাবে সমর্থন করে জয় নিশ্চিত করেছিলেন। আজ সেই পরিস্থিতি আর নেই।”
রাজনীতির বর্তমান পরিবেশ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ৭৯ বছর বয়সি এই কংগ্রেস নেতা বলেন, “আজকের দিনে রাজনীতি গভীরভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। সৎ রাজনীতির টিকে থাকার জায়গা নেই বললেই চলে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, নির্বাচনে লড়তে হলে রাজনীতিবিদদেরই সাধারণ মানুষকে টাকা দিতে হয়।”
নিজের বয়সের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমান কংগ্রেস সরকারের মেয়াদ আরও দেড় বছর বাকি রয়েছে। সেই সময় তাঁর বয়স হবে ৮১-৮২ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে তখন আর আগের মতো শারীরিক শক্তি ও উদ্যম থাকবে না। ১৯৭৮ সালে তালুক বোর্ড সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করা সিদ্দারামাইয়া জানান, ২০২৮ সালে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ হবে। বিগত পাঁচ দশক ধরে রাজ্যের মানুষ তাঁকে যেভাবে ভালোবাসা ও সমর্থন জানিয়েছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বাকি জীবন জনসেবায় উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করেছেন।

