কোচবিহার: সোমবার ৬ জুলাই, তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং তার পরবর্তী কয়েক বছর তথা মৃত্যু পর্যন্ত সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নাম। এরপর বিরোধীদের রাজনীতির কারণেই চর্চা থেকে একপ্রকার হারিয়ে যান। বহু দশক পর বর্তমানে ফের দেশ, বিশেষ করে রাজ্যে আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee)। দেশের জন্য তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরা হচ্ছে সরকারি উদ্যোগেও। যাই হোক, শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে কোচবিহারের যে যোগাযোগ ছিল, তার একাধিক প্রমাণ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম তাঁর লেখা একটি চিঠি। সম্প্রতি প্রকাশিত ওই চিঠি সকলের আগ্রহে এক অন্য মাত্রা এনেছে।
১৯৫১ সালের ৯ জুলাই। কোচবিহার (Cooch Behar) রামভোলা স্কুলের শিক্ষক অশনিভূষণ মজুমদারের কাছে তাঁর চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার আসে। প্রেরক ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ওই চিঠিতে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেমোরিয়াল কমিটির জন্য তহবিল সংগ্রহে যোগদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করার জন্য প্রাপককে শ্যামাপ্রসাদ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এবং অশনিভূষণের লেখা চিঠিটি তিনি কমিটির সেক্রেটারি কেডি ঘোষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনিই বাকি বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন শ্যামাপ্রসাদ। শ্যামাপ্রসাদের নিজের হাতে স্বাক্ষর করা ওই চিঠি থেকে এর বেশি কিছু জানা যায় না। যেমন জানা যায়নি পরবর্তীতে তহবিল সংগ্রহের ব্যাপারে আর যোগাযোগ হয়েছিল কি না। কিন্তু চিঠির এই কয়েকটি কথা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার যে, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে শ্যামাপ্রসাদ কিছু একটা উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অশনিভূষণের ছেলে অরূপজ্যোতি মজুমদার বলেন, ‘শরৎচন্দ্র ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি মারা যান। তাঁর স্মৃতি রক্ষার জন্য কোনও কমিটি গঠন করা অবাস্তব কিছু নয়। যেহেতু এখানে সরাসরি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেই কথা বলা হচ্ছে, তাহলে ধরে নেওয়া যেতেই পারে, তিনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়েছিলেন। শুধু জড়িয়ে নয়, হয়তো এটার মাথায় ছিলেন।’
অশনিভূষণের চিঠির প্রাপ্তিস্বীকারে শ্যামাপ্রসাদের চিঠি প্রসঙ্গে তুফানগঞ্জের বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গ নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতী রাভা রায় বলেন, ‘পাঁচের দশকে কোচবিহারের প্রয়াত জাতীয়তাবাদী শিক্ষাবিদ এবং সাহিত্যিক অশনিভূষণ মজুমদারকে লেখা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সম্প্রতি প্রকাশিত চিঠিটি আমাদের অমূল্য সম্পদ। ভারতের স্বাধীনতা এবং কোচবিহারের ভারতভুক্তির সময়ে ওঁদের মধ্যে যে সমস্ত চিঠির আদানপ্রদান হয়েছিল বলে কথিত রয়েছে তা খুঁজে দেখা প্রয়োজন। হয়তো তাতে নতুন কিছু ঐতিহাসিক তথ্য উঠে আসবে।’
এ প্রসঙ্গে কোচবিহারের গবেষক ও প্রাবন্ধিক দেবব্রত চাকির মন্তব্য, এসব চিঠি সেই সময়ের এক অনন্য দলিল। ১৯৫১ সালের ২১ এপ্রিল সাগরদিঘির পাড়ে খাদ্য আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছিলেন। তার অব্যবহিত পরেই ৭ মে শ্যামাপ্রসাদ কোচবিহারে আসেন। গুলি কাণ্ডের খোঁজখবর নেন। তৎকালীন ভিক্টোরিয়া কলেজের (বর্তমানে এবিএন শীল) অধ্যাপক ডঃ চুনিলাল মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে রাত্রিবাস করেন। পরের বছর তুফানগঞ্জেও গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এসব নিয়ে নতুন করে আলোচনার সময় এসেছে বলে মনে করেন দেবব্রত।

