নয়াদিল্লি: জোড়া জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে লক্ষ্যপূরণ। এবার মিশন অস্ট্রেলিয়া। লাল বলের বদলে সাদা বলের দ্বৈরথ। ক্যারিবিয়ান সিরিজের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই অস্ট্রেলিয়াগামী বিমানে উঠে পড়ার চ্যালেঞ্জ। রবিবার পারথে ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচ। অপেক্ষায় মিচেল স্টার্ক, জোশ হ্যাজেলউড, মিচেল মার্শের অস্ট্রেলিয়া।
টেস্টের আমেজ ঝেড়ে দ্রুত সাদা বলের ফর্ম্যাটে ঢুকে পড়া। বদল পরিকল্পনা, টিম কম্বিনেশনেও। যদিও মিশন অস্ট্রেলিয়ায় নামার আগে পরিকল্পনা তৈরির সময় কোথায়? অথচ, শুভমানের জন্য থাকছে প্রথমবার ওডিআই দলকে সামলানোর চ্যালেঞ্জ। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে যে প্রশ্নে শুভমানের মজার উত্তর, বিমানেই সবকিছু সেরে ফেলবেন! বলেছেন, ‘লম্বা বিমান জার্নি। অনেকটা সময় পাব। বিমানেই কথা বলে নেব আমরা। সেরে ফেলব ওডিআই সিরিজের পরিকল্পনা!’
যত সহজে গিল বললেন, কাজ ততটাই কঠিন। ডন ব্র্যাডম্যানের দেশ সবসময় কঠিন মঞ্চ সফরকারী দলের জন্য। পঞ্চাশের ফর্ম্যাটে অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের সাফল্যও হাতেগোনা। তবে অতীত নয়, সামনের দিকে তাকাতে বদ্ধপরিকর এই ভারত। রোহিত শর্মাকে সরিয়ে তরুণ শুভমানের কাঁধে নেতৃত্বভার যে ভাবনার ফল।
টেস্টে আস্থার মর্যাদা রেখেছেন শুভমান। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রান পাচ্ছেন। ইংল্যান্ডে ২-২-এর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ২-০। অধিনায়ক হিসেবে সাত টেস্টের যে অভিজ্ঞতা নিয়ে শুভমান বলেছেন, ‘পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাহসী পদক্ষেপ করতে হয়েছে। আর যে সিদ্ধান্তগুলি নির্ভর করে দলের প্রয়োজন, পরিস্থিতি মাফিক।’
সিরিজ জয়ের দিনেও ফলোঅন বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। যে সিদ্ধান্তের ফলে টানা দুইশো ওভারের বেশি বোলিং করার ধকল নিতে হয়েছে বোলারদের! শুভমানের সাফাই, ‘আমরা প্রায় ৩০০ রানে (২৭০) এগিয়ে ছিলাম। তার ওপর প্রায় ডেড পিচ। ভেবেছিলাম, ৫০০ রান হাতে থাকলেও শেষ দিনে ৬-৭টি উইকেট নেওয়া কঠিন হতে পারে। তাই ফলোঅনের ভাবনা।’
আলোচনায় নীতীশ কুমার রেড্ডিও। পেস অলরাউন্ডার হিসেবে দলে থাকলেও বোলার নীতীশে আস্থা দেখাচ্ছে না দল। দ্বিতীয় ইনিংসে যেমন শাই হোপ-জন ক্যাম্পবেলের ম্যারাথন পার্টনারশিপের সময়ও বল দেওয়া হয়নি। অথচ, বল করতে দেখা গিয়েছে যশস্বী জয়সওয়ালকে! শুভমান এভাবে বিষয়টি দেখতে নারাজ। যুক্তি, ‘আমরা চাই না কেউ শুধু বিদেশ সফরেই খেলুক। এর ফলে প্লেয়ারের ওপর চাপ তৈরি হবে। আমাদের লক্ষ্য বিদেশের মাটিতে ম্যাচ উইনার তৈরি। এখানে নীতীশ বল না পেলেও, আগামীর ভাবনায় ওকে প্রস্তুত রাখা আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ।’
অলরাউন্ডার হিসেবে নীতীশ প্রভাব না ফেললেও ব্যাটে-বলে রবীন্দ্র জাদেজার স্বপ্নের দৌড় অব্যাহত। কেরিয়ারের তৃতীয় সিরিজ সেরার পুরস্কার হাতে বলেছেন, ‘দলগত প্রয়াস। গত ৫-৬ মাসে কী ধরনের ক্রিকেট খেলছি, সেই সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল। সাফল্য বজায় রাখতে পারাটা দল এবং ব্যক্তিগতভাবে ভালো দিক।’
ব্যাটিং সাফল্যের কৃতিত্ব গৌতম গম্ভীরকে দিচ্ছেন। জাদেজার কথায়, আগে ৭-৮-৯ নম্বরে পর্যন্ত ব্যাটিং করতে হয়েছে। সেখানে এখন ৬ নম্বরে ব্যাটিং। বলেছেন, ‘আগে আট নম্বরে ব্যাট করতাম। এমনকি ৯ নম্বরেও। এখন সেখানে ছয়ে। গোতিভাই বলে দিয়েছে, নিজেকে যেন স্পেশালিস্ট ব্যাটার হিসেবে দেখি। ব্যাটিং অর্ডারে উন্নতির ফলে অনেকটা সময় ক্রিজে কাটাতে পারছি। বদলেছে ব্যাটিং স্ট্র্যাটেজিও। যার সুফল পাচ্ছি।’
রবিচন্দ্রন অশ্বীনের অবর্তমানে বেশি ওভার বল যেমন পাচ্ছেন, তেমনই তরুণ স্পিন ব্রিগেডকে গাইড করার দায়িত্বও জাদেজার কাঁধে। ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা কুলদীপ যাদবের কথায় সেই সুর। বলেছেন, ‘জাড্ডুভাইয়ের সঙ্গে বোলিং করাটা উপভোগ করছি। কঠিন পরিস্থিতিতে সবসময় পাশে থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেন।’
