উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন বছরের আইনি লড়াই শেষে অবসান হলো এক বিচারপর্বের। জাপানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে (Shinzo Abe)-কে প্রকাশ্য জনসভায় গুলি করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত টেটসুয়া ইয়ামাগামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা (Shinzo Abe Assassination Verdict) শোনাল সে দেশের আদালত (Japan Court docket Verdict)। বুধবার এই রায় ঘোষণার সময় আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ছিল তুঙ্গে।
এদিন যখন জাপানের আদালতে এই বহুপ্রতীক্ষিত মামলার রায় ঘোষণা হচ্ছিল, তখন আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বহু মানুষ। সাজাপ্রাপ্ত আসামী টেটসুয়া ইয়ামাগামিকে যখন এজলাসে আনা হয়, তার চোখেমুখে কোনও অনুশোচনা বা উৎকণ্ঠার ছাপ ছিল না। অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবেই সে বিচারকের রায় শোনে। নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছিল আগেই, এমনকি আত্মপক্ষ সমর্থনেও কোনও বাড়তি জোরালো সওয়াল করেনি সে। সব পক্ষের বয়ান ও তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
২০২২ সালের জুলাই। জাপানের নারা শহরে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে নির্বাচনি প্রচারে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন জাপানের ইতিহাসের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। সেই সময় ভিড়ের মধ্যে থেকে আচমকাই গর্জে ওঠে আততায়ী টেটসুয়ার বন্দুক। খুব কাছ থেকে শিনজোর বুক লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে সে। কয়েকদিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে এই বিশ্বনেতা।
ঘটনার পরপরই নারা শহরের বাসিন্দা টেটসুয়াকে ধরে ফেলে পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি ঘরোয়া প্রযুক্তিতে তৈরি বা ‘হোমমেড’ বন্দুক। তদন্তকারীদের সে জানিয়েছিল, শিনজোর প্রতি অসন্তুষ্ট ছিল। সে কারণেই তাকে হত্যার ছক কষেছিলেন। নিজের বানানো বন্দুক দিয়েই গুলি চালিয়েছে সে। জাপানের (Japan Information) মতো অত্যন্ত কঠোর আইন ও শান্তিপূর্ণ দেশে এই হত্যাকাণ্ড গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। বুধবারের এই রায়ের মাধ্যমে জাপানের বিচার ব্যবস্থা এক কঠোর বার্তা দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
