উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রায় দেড় ধরে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের (Bangladesh) ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। ওপার বাংলায় তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং ফাঁসির সাজা ঘোষণার পাশাপাশি তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইতিমধ্যেই সেই সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু হয়েছে। আর এমন উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে শেখ হাসিনার পুরোনো নির্বাচনি হলফনামা, যেখানে তাঁর মোট সম্পত্তির খতিয়ান সামনে এসেছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি মুদ্রায় শেখ হাসিনার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে তাঁর হাতে নগদ ছিল ২৮ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি টাকা। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর জমা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। এছাড়া তাঁর নামে রয়েছে ১৫ বিঘারও বেশি কৃষিজমি। সম্পত্তির তালিকায় তিনটি গাড়ির উল্লেখ থাকলেও তার মধ্যে একটি উপহার পাওয়ায় সেটির কোনো নির্দিষ্ট মূল্য তিনি ধরেননি। বাকি দুটি গাড়ির সম্মিলিত বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৪৭ লক্ষ ৫০ হাজার বাংলাদেশি টাকা। পাশাপাশি ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার সোনা ও মূল্যবান ধাতু এবং ৭ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
এদিকে, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার মুখোমুখি করার জন্য ঢাকার তরফে ভারতের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এই কূটনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বর্ষীয়ান এই নেত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘‘আমি আমার নিজের দেশে ফিরতে চাই। আমি ফিরবই। ডিসেম্বরের মধ্যেই আমার ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা। কারণ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকে অনির্দিষ্টকাল চলতে দেওয়া যায় না। ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের পাশে দাঁড়াতেই আমাকে ফিরতে হবে।’’
উল্লেখ্য, গত ৫ অগাস্ট দিল্লি থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা অত্যন্ত দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, মাথার ওপর মৃত্যু পরোয়ানা ঝুললেও আগামী ডিসেম্বর অর্থাৎ বাংলাদেশের বিজয়ের মাসেই তিনি স্বদেশে ফিরবেন। একদিকে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার তোড়জোড় এবং অন্যদিকে হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার এই হুংকার— সব মিলিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।

