উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর অবশেষে নিজের দেশ বাংলাদেশে (Bangladesh) পা রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। সমস্ত রকম গ্রেপ্তারি কিংবা জীবনের ঝুঁকি থাকার পরও আগামী ১৪ ডিসেম্বর তিনি স্বদেশে ফিরবেন বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আগামী ১৬ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে বিজয় দিবস পালন করে থাকে, ১৯৭১ সালের এই দিনেই ঢাকার মাটিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। ঠিক এই ঐতিহাসিক দিনটির প্রাক্কালে অর্থাৎ ১৪ ডিসেম্বর দেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করতে চান তিনি। সূত্রের খবর, এই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে আগামী শুক্রবার নয়াদিল্লিতে দলীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জরুরি বৈঠকের জন্য ডেকে পাঠিয়েছেন শেখ হাসিনা।
পারিবারিক বা দলীয় কাঠামোর গণ্ডি পেরিয়ে ওই বিশেষ বৈঠকে হাজির থাকার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে তলব করেছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মতো একাধিক প্রভাবশালী নেতাকে। দলীয় সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আগামীদিনে দেশে ফেরার সম্পূর্ণ কৌশল এবং কর্মপন্থা ঠিক করতেই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। এদিকে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে অন্য একটি বিষয়, ঠিক এই সময়কালেই বাংলাদেশে সাত দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার পরিকল্পনা নিয়েছে তারেক রহমানের সরকার। স্থানীয় সরকার মন্ত্রক ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ সিদ্ধান্তে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া চলবে নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত, যার নেপথ্যে হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে আটকে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে বলেই দাবি করেছে আওয়ামি লিগ (Awami League) শিবির।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে তুমুল সংরক্ষণ-বিরোধী গণআন্দোলনের জেরে গদিচ্যুত হয়ে বঙ্গভবন ছেড়ে আকাশপথে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে চলে আসেন সেদেশের দীর্ঘতম মেয়াদের এই প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পতনের পর বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় এক বছর দেশ পরিচালনা করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়। শুধু তাই নয়, তাঁর মন্ত্রিসভার একাধিক তৎকালীন মন্ত্রীকেও একই সাজা দেওয়া হয় এবং ইউনূস সরকারের আমলেই আওয়ামি লিগকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। যার জেরে সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলটির কোনো প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাননি। এহেন জটিল ও প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হাসিনার এই দেশে ফেরার ঘোষণা নতুন করে এক রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।

