উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ একে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে শেষ হয়ে গেল চারটি তাজা প্রাণ (Septic Tank Gasoline Accident)! পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর থানা এলাকার বাদশাপুর গ্রামে সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে পরপর একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, মৃতদের নাম বদির মল্লিক (৪৫), তাঁর বোন নাজেরা বিবি (৩৮), ভাগ্নে শেখ রবিউল (২৫) এবং প্রতিবেশী শেখ শোয়েব (২৭)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মোহনপুর ব্লকের শিয়ালসাই গ্রাম পঞ্চায়েতের আঁতলার কাছে বাদশাপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ ফারজানের বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের কাজ চলছিল। ফারজানের শ্যালক বদির মল্লিক পেশায় মিস্ত্রি ছিলেন। তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করার কাজ সম্পূর্ণ করেন।
বুধবার সকালে ট্যাঙ্কের নিচে পড়ে থাকা একটি কাঠের পাটাতন তোলার জন্য বদির ভেতরে নামেন। উপরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বোন নাজেরা বিবি। কাঠের পাটাতন তোলার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আচমকা অসুস্থ হয়ে নিচে পড়ে যান বদির। দাদাকে বাঁচাতে চিৎকার করে নিজের ছেলেকে ডাকার পাশাপাশি কোনো কিছু না ভেবেই বোন নাজেরা দ্রুত ট্যাঙ্কের নিচে নেমে পড়েন। কিন্তু বিষাক্ত গ্যাসে তিনিও মুহূর্তের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন।
এরপর মাকে বাঁচাতে ছুটি এসে ট্যাঙ্কে নামেন ছেলে শেখ রবিউল। তাঁরও একই পরিণতি হয়। বাড়ির লোকজনের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশী যুবক শেখ শোয়েব। পরপর ৩ জনকে উদ্ধার করতে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে নিচে নামলে, তাঁকেও গ্রাস করে প্রাণঘাতী বিষাক্ত বিষ-গ্যাস।
স্থানীয় প্রতিবেশী রুবেল শেখ জানান, “একজনকে বাঁচাতে গিয়ে পরপর অন্যজন নামেন এবং চারজনেরই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। পরে গ্রামবাসীরা খবর পেয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেমে চারজনকে উদ্ধার করে।”
ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় মোহনপুর থানার পুলিশ। চারজনকেই উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় বাগদা হাসপাতালে এবং পরে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সেপটিক ট্যাঙ্কের ভেতর জমে থাকা মারাত্মক মিথেন ও হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের (Toxic Gasoline) কারণেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে সকলের মৃত্যু হয়েছে। এই অকল্পনীয় ও মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ গোটা বাদশাপুর গ্রাম।

