জলপাইগুড়ি: রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের মতো জলপাইগুড়িতেও (Jalpaiguri) শুক্রবার থেকে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী জনকল্যাণমূলক ‘সেবা সেতু অভিযান’। মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগে প্রথম দিনেই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে শিবিরে জনপ্রিয় দুটি প্রকল্পের পরিষেবা না থাকায় সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
জলপাইগুড়ি পুরসভা এলাকার প্রয়াস হল এবং দিনবাজার মার্কেট কমপ্লেক্সে আয়োজিত ক্যাম্পগুলিতে প্রধানত দুটি বিষয়ের অভাব প্রকট হয়ে ওঠে:
- অন্নপূর্ণা যোজনার কাউন্টার অনুপস্থিত: অতীতে সরকার পরিবর্তনের পর আয়োজিত বিভিন্ন শিবিরে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) প্রকল্পের আলাদা কাউন্টার থাকলেও, এই সেবা সেতু অভিযানে তার দেখা মেলেনি। অনেক মহিলা ক্ষোভ প্রকাশ করলে বাধ্য হয়ে কিছু ক্যাম্পে সাদা কাগজে আবেদন লিখে জমা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
- বেকার ভাতার পরিষেবা নেই: বহু প্রত্যাশিত বেকার ভাতার কোনও কাউন্টার বা ব্যবস্থা এই শিবিরগুলিতে রাখা হয়নি।
পরিষেবা না পেয়ে অনেক মহিলাকে শিবিরের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়াতে দেখা যায়। পূজা কামতি, কামিলা খাতুনদের মতো ক্ষুব্ধ সাধারণ নারীদের প্রশ্ন, সাদা কাগজে আবেদন করে আদৌ কি কোনও লাভ হবে?
এই বিষয়ে জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভার বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন, প্রায় ৯৯ শতাংশ মহিলা ইতিমধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে গিয়েছেন। বাকি থাকা সামান্য কিছু আবেদন ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়া হবে, যার কারণে আলাদা কাউন্টারের প্রয়োজন পড়েনি। পাশাপাশি, বেকার ভাতা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা এখনও না হওয়ায় তার কাউন্টার রাখা হয়নি বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, জলপাইগুড়ি জেলায় প্রতিদিন ২৫টি করে জায়গায়, মোট তিন দিনে ৭৫টি শিবির করার পরিকল্পনা রয়েছে। ছোটখাটো অসন্তোষ সত্ত্বেও প্রথম দিনে শিবিরগুলিতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

