উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) বসে ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতে গিয়ে এক বিরাট গোপন সত্য প্রকাশ্যে আনল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (LeT)। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে লস্কর-ঘনিষ্ঠ নেতা রিজওয়ান হানিফ দাবি করেছে, গত ৩-৪ বছরে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে তাদের ৩০ জনেরও বেশি জঙ্গি ও অপারেটিভকে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি, এই সমস্ত কিলিংয়ের পেছনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির হাত রয়েছে (Indian intelligence companies)।
অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের (Unknown Gunmen) হাতে পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, মোজাফ্ফরাবাদ এবং রাওয়ালাকোটের মতো শহরগুলিতে পরপর লস্কর ক্যাডারদের খতম করার যে ঘটনাগুলি ঘটছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। হানিফের এই বক্তব্য সেই জল্পনাতেই সিলমোহর দিল। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে লস্কর জঙ্গিরা এখন চরম আতঙ্কে রয়েছে স্বীকার করে রিজওয়ান দাবি করে, ভারতীয় এজেন্টরা তাদের কর্মীদের সেখানে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না।
নিজের ভাষণে হানিফ একাধারে ভারতের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে হিন্দু ও ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে চরম বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে উসকানি ছড়িয়েছে। নিজের চরমপন্থি মানসিকতা ঢাকা দিতে সে দাবি করে, কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণেই নাকি তাদের নিশানা করা হচ্ছে।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে হাফিজ সইদ এবং তার সহযোগীদের হাত ধরে তৈরি লস্কর-ই-তৈবা ভারত, আমেরিকা এবং জাতিসংঘ কর্তৃক একটি ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন। ভারতের মাটিতে একাধিক বড় জঙ্গি হামলার পেছনে নাম জড়ানো এই সংগঠনটি এতদিন পাক সেনার ছত্রছায়ায় সুরক্ষিত থাকলেও, সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে যে তাদের ভিত নড়ে গিয়েছে, তা লস্কর নেতার এই স্বীকারোক্তি থেকেই স্পষ্ট।

