অর্ণব চক্রবর্তী, ফরাক্কা: অপেক্ষা আর মাত্র কিছুদিনের। মার্চ মাসের শুরুতেই উদ্বোধন হবে দ্বিতীয় ফরাক্কা সেতুর (Second Farakka Bridge)। এই কথা জানিয়েছেন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই)-এর প্রোজেক্ট ডিরেক্টর অজয় গাডেকর। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় ফরাক্কা সেতুর কাজ প্রায় শেষের মুখে। ২০২৬-এর মার্চ মাসেই সাধারণ মানুষের জন্য এই ব্রিজ খুলে দেওয়া হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘এই ব্রিজ চালু হলে মানুষ যানজটের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন। উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।’
২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এই সেতুর কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেতু নির্মাণের কাজের গতি শ্লথ হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হয়নি। কখনও শোনা যায় ২০২৫-এর পুজোর পর এই সেতুর উদ্বোধন হবে, কখনও বা শোনা যায় ডিসেম্বরে এই সেতু জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। শেষে জানা যায় ফান্ডের সমস্যার কারণে সেতু এবং জাতীয় সড়কের মধ্যেকার ফাঁক মেলানোর কাজ থমকে আছে। সেই কাজ শেষ হলেই এই সেতুর উদ্বোধন হবে।
সেতু এবং জাতীয় সড়কের মধ্যেকার ফাঁক মেলানোর কাজের জন্য প্রতিদিন নিউ ফরাক্কা থেকে শুরু করে বল্লালপুর পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নিত্যদিনের এই যানজটের কারণে মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই বিষয়ে ফরাক্কার বিধায়ক মণিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বহুবার জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করার জন্য অনুরোধ করেছি। সেতুর কাজের জন্য তৈরি হওয়া এই যানজটের রেশ নিউ ফরাক্কা থেকে ধুলিয়ান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে মানুষকে নাজেহাল হতে হচ্ছে। দ্রুত এই সেতু চালু হলে সাধারণ মানুষ এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন। উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গের মধ্যেকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুগম হবে।’
এই সেতু তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার প্রোজেক্ট ম্যানেজার পিবি স্বামী বলেন, ‘সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। এখন ফিনিশিং দেওয়া হচ্ছে।’ এই সেতুর আপ ও ডাউন লেনের মাঝখানে একটি ইমার্জেন্সি বে থাকছে বলে এনএইচএআই-এর তরফে জানানো হয়েছে। এর ফলে কোনও গাড়ি মাঝরাস্তায় খারাপ হয়ে গেলে সেই গাড়িকে ইমার্জেন্সি বে দিয়ে সেতুর শেষ প্রান্তে নিয়ে আসা হবে। সার্বিক যান চলাচল ব্যাহত হবে না।
এই সেতুর জন্য প্রাথমিকভাবে ৫২১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও, ২৫৮০ মিটার লম্বা এই সেতু নির্মাণের জন্য ৬০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
