উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের পর বাংলায় ক্ষমতার হাতবদল হতেই নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মুখে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ২৮ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসতে চলেছে এবার সংসদে। সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভায় দল ভাঙার পর, এবার খোদ দেশের আইনসভাতেও চরম নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছে। দলটির ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে অন্তত ১৯ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই একটি বিদ্রোহী তালিকায় স্বাক্ষর করেছেন বলে বিশেষ সূত্রে খবর। এর ফলে তৃণমূল কংগ্রেস সংসদে এক গভীর ও আড়াআড়ি বিভাজনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।
তৃণমূলের অন্দরের এই বিদ্রোহী শিবিরে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে নাম জড়িয়েছে যাদবপুরের সাংসদ তথা যুবনেত্রী সায়নী ঘোষের (Sayani Ghosh)। তাঁর পাশাপাশি বহরমপুরের হেভিওয়েট জয়ী প্রার্থী প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান এবং আসানসোলের তারকা সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাও এই ১৯ জনের তালিকায় স্বাক্ষর করেছেন বলে সূত্রের খবর। এখানেই শেষ নয়, রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রের সাংসদ মালা রায়ও এবার নেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দিকে পা বাড়াতে পারেন।
দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Legislation) হাত থেকে বাঁচতে এবং সাংসদ পদ টিকিয়ে রাখতে এই ১৯ সংখ্যাটি বিদ্রোহীদের জন্য মোক্ষম হাতিয়ার। লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান শক্তি অনুযায়ী, দল না হারিয়ে একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী বা উপদল তৈরি করতে হলে মোট সাংসদ সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের (২/৩) সমর্থন প্রয়োজন। ১৯ জন সাংসদ একজোট হওয়ায় তাঁরা সেই আইনি বাধা পার করতে সক্ষম হচ্ছেন। এই বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন দল থেকে সদ্য পদত্যাগ করা বর্ষীয়ান নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি স্পিকারের দপ্তরে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে খবর। বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না; বরং সংসদে পৃথক ব্লক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এনডিএ (NDA)-কে সমর্থন জানাবেন।
তৃণমূলের এই অভূতপূর্ব সংকটের মাঝেই এদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দলটির অন্যতম পরিচিত মুখ মহুয়া মৈত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি এই বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে কটাক্ষ করে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায় অনুযায়ী মূল রাজনৈতিক দলের মেলবন্ধন ছাড়া কেবল সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য আলাদা দল গঠন করতে পারেন না। ১৫ বছর বাংলায় ক্ষমতায় থাকার পর রাজ্য স্তরে এবং এখন জাতীয় স্তরে এই ধরণের ভাঙন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সামনে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল। আগামী দিনগুলিতে স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং আইনি লড়াইয়ের ওপরই নির্ভর করছে বাংলার এই তারকা সাংসদদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
