দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: আরাবল্লি পর্বতমালায় খননের কেন্দ্রীয় অনুমোদনের বিরুদ্ধে আন্দোলন (Save Aravalli Motion) চালিয়ে যাওয়া হবে। এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল পর্বতারোহী সংস্থার রাজ্য সম্মেলনে। মঙ্গলবার সম্মেলনের শেষ দিনে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিনিধিদের নিয়ে উদ্যোক্তারা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে রায়গঞ্জের (Raiganj) কুলিক পক্ষীনিবাস (Kulik Fowl Sanctuary), বাহিন রাজবাড়ি ও বিন্দোলের ঐতিহ্যবাহী ভৈরবী মন্দির ছিল। আয়োজক সংস্থার আহ্বায়ক মনোতোষ সেন বলেন, ‘২৭ ডিসেম্বর শুরু হয়েছিল রাজ্য সম্মেলন। আজ শেষ হল। চারদিনের সম্মেলনের শেষে সিদ্ধান্ত হয়, আরাবল্লি নিয়ে রাজ্যের সর্বত্র আমরা আন্দোলন করব। জেলা থেকে বহু পর্বতারোহী সংস্থা এসেছিল। সবাই নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানারে প্রকৃতি রক্ষার্থে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। আরবল্লিকে রক্ষা করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে যাতে ভবিষ্যতে পাহাড়, পর্বত ও প্রকৃতির ওপর কেউ থাবা বসানোর সাহস না পান।’
কর্ণজোড়ায় তিস্তা আবাসনের প্রাঙ্গণে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে পর্বতারোহী, পদযাত্রী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পাহাড়, প্রকৃতি ও নদনদীর ওপর আলোচনার পাশাপাশি জেলার লোকশিল্প ও ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন গবেষকরা।
মনোতোষ বলেন, ‘কুলিক নদী রক্ষার্থে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছিলাম। শুধু নদী নয়, জীবজগৎ রক্ষার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিবছর ৬ থেকে ১৪ বছরের ছেলেমেয়েদের নিয়ে প্রকৃতি পাঠ শিবির করি। ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে ছেলেমেয়েদের নিয়ে পাহাড়ে ক্যাম্প করে থাকি। এই ক্যাম্পগুলি শিক্ষার মূল মাধ্যম। কীভাবে প্রকৃতিকে বাঁচাতে হবে সেই বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়।’ আগামী বছর ডিসেম্বর মাসে কৃষ্ণনগরে এই সম্মেলন হওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
