Saudi Arabia | মক্কা-মদিনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় এড়াল হুথি, মধ্যপ্রাচ্যে চড়ছে সংঘাতের পারদ

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সৌদি আরবের (Saudi Arabia) দুটি প্রধান ও পবিত্র ধর্মীয় কেন্দ্র মক্কা (Mecca) ও মদিনা (Medina) শহরকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছে দেশটির সরকার। এই হামলার নেপথ্যে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথির (Houthi rebels) হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে রিয়াদ। তবে শুরু থেকে এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, অতীতে কখনও তাদের নিশানায় পবিত্র এই দুই শহর ছিল না এবং বর্তমানেও তা তাদের কোনও সামরিক কর্মপদ্ধতির মধ্যে পড়ে না।

মূলত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈধ সরকারকে সৌদি আরব সমর্থন করে আসার ফলেই এই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে সংঘাত চলে আসছে। সাম্প্রতিককালে ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গিয়েছে। সেই আঞ্চলিক উত্তেজনার আঁচ লেগেছে সৌদি-হুথি সম্পর্কেও। যেখানে তেহরানের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ মদদে হুথিরা আবার নতুন করে সংঘাতে জড়িয়েছে। বিগত কয়েকমাস ধরে হুথি বিদ্রোহীরা সৌদির একাধিক বাণিজ্যিক শহর, বিমানবন্দর ও অত্যন্ত সংবেদনশীল তেল শোধনাগারগুলোকে নিশানা করে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।

সৌদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে পবিত্র শহর দুটির দিকে এগিয়ে আসা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। কিন্তু মাঝআকাশে সেগুলোকে ধ্বংস করার ফলে তার মারত্মক ধ্বংসাবশেষ বা স্প্রাভেলের টুকরো এসে পড়েছে মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন জনবহুল এলাকায়। এর পাশাপাশি জেদ্দা, তইফ এবং রাবিঘের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর আশপাশেও একই রকম ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়তে দেখা গিয়েছে। সৌদির সিভিল ডিফেন্স এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী এই ঘটনার পর থেকেই উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদির এই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করে হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক পালটা বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের যে কোনও সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য থাকে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড অর্থাৎ তেল স্থাপনা এবং কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলো। তারা যখনই কোনও অপারেশন পরিচালনা করেন, তা সর্বসমক্ষে সগর্বে ঘোষণা করা হয়। এক্ষেত্রে মক্কা বা মদিনার ওপর হামলার কোনও ব্যাপার তাদের এজেন্ডায় ছিল না। তবে সৌদি ভূখণ্ডের অন্যান্য অংশে হামলার কথা তারা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছে। হুথির দাবি অনুযায়ী, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইয়ানবুর আরামকো তেল ঘাঁটি, রাবিঘের তেল শোধনাগার এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে।

সৌদি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইয়ানবু এবং তইফের দিকে ধেয়ে আসা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে, তবে হুথিরা যে দীর্ঘ তালিকার কথা উল্লেখ করেছে তার বাকি লক্ষ্যবস্তুগুলো নিয়ে রিয়াদের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এই ঘটনার জেরে শনিবার সকালের দিকে ইয়ানবু, তইফ, মক্কা ও জেদ্দার মতো ব্যস্ত শহরগুলোতে জরুরিকালীন সতর্কতা বা অ্যালার্ট জারি করেছিল সৌদি প্রশাসন, যদিও মিনিট দশেক বাদেই সেই বিপদসংকেত তুলে নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী এডেনে উপকূলরক্ষীবাহিনীর একটি ঘাঁটিতেও শনিবার ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার পেছনেও হুথিদের হাত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই দফার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ফের চরম অশান্তি ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও বিমান সংস্থা সৌদি আরবগামী তাদের বহু ফ্লাইট সাময়িকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *