উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মুক্তি পাওয়ার দু’দিনের মধ্যেই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ (Diljit Dosanjh) অভিনীত ছবি ‘সতলুজ’ (Satluj)। সিনেমাটির বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে দিল্লি শিখ গুরুদ্বারা ম্যানেজমেন্ট কমিটি। তাদের দাবি, মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিং খালরার জীবনীকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবিকে সাধারণ মানুষের থেকে আড়াল করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
দীর্ঘ তিন বছরের আইনি লড়াইয়ের পর ছবিটি ওটিটিতে (OTT) মুক্তি পেলেও, সেন্সরের ছাড়পত্র নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দাবি, ছবিটির যথাযথ সেন্সর সার্টিফিকেট ছিল না, উপরন্তু নাম পরিবর্তন করে তা মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই বিতর্কের পর্যালোচনার জন্য ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছে শিখ সংগঠনগুলি।
দিল্লি শিখ গুরুদ্বারা ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি হরমিত সিং কালকা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি পঞ্জাবের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা। যশবন্ত সিং খালরা এমন একজন সমাজকর্মী ছিলেন, যিনি পঞ্জাবের ২৫,০০০ বেওয়ারিশ লাশের রহস্য উদ্ঘাটন করে গোটা বিশ্বের সামনে তৎকালীন ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছিলেন। সেই সত্যকে মানুষ দেখতে পাবে বলেই হয়তো এই নিষেধাজ্ঞা।” তিনি দেশের সমস্ত শিখ সংগঠনকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং জনমানসে ‘সতলুজ’ ছবির বিষয়বস্তু পৌঁছে দেওয়ার ডাক দিয়েছেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে ছবিটি তুলে নেওয়ায় শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে দিলজিতের এই ছবি ঘিরে এখন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক তুঙ্গে।
যদিও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ছবি মুক্তি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শিখ নেতাদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।

