সামসী: মালদা জেলার (Malda) রতুয়া-২ ব্লকের শ্রীপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অবস্থিত লস্করপুর গ্রাম। এই গ্রামের বুক চিরে গেছে ৮১ নং জাতীয় সড়ক। জাতীয় সড়কের পাশে সু-প্রাচীন বট গাছের নিচে কালীথানে কালীপুজো (Kalipuja 2025) হয়ে থাকে। এই পুজোর জন্য পাশের গ্রাম শ্রীপুরের জনৈক মুসলিম জমিদার প্রয়াত মহসিন হোসেন চৌধুরী, ইউসুফ হোসেন চৌধুরীরা ইংরেজি ১৭৭৪ সালে(বাংলা ১১৮০ সাল) জমি দান করেছিলেন। এটা এখন সর্বজনীন কালীপুজোয় পরিণত হয়েছে। মুসলিম জমিদারের দান করা জমিতে লস্করপুর কালীপুজো এবার ২৫৩ বছরে পদার্পন করল।
এই পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য কৃষ্ণ অধিকারী অবশ্য বলেন, ‘এবার লস্করপুর কালীপুজোকে ঘিরে দুদিন ধরে নানান অনুষ্ঠান চলবে। কুইজ, নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তিসহ বহিরাগত শিল্পী সমন্বয়ে বাউল গানের আসরও বসবে। হিন্দুদের পাশাপাশি এলাকার প্রচুর মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনও আসেন মেলায়। এই কালীপুজোকে ঘিরে এলাকার হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। যেন সম্প্রীতির এক মিলন ক্ষেত্রে পরিণত হয়।’
লস্করপুর সার্বজনীন কালীপুজো কমিটির সম্পাদক অলোক সরকারের বক্তব্য, ‘এবার লস্করপুর কালীপুজোয় প্রতিমা তৈরি করেছেন আলাল জোড়গাছি গ্রামের শিল্পী সমকুল পাল। তিনি একটানা ১২ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন। পুজোর পুরোহিতের দায়িত্বে রয়েছেন সামসীর সাধন চক্রবর্তী। শাস্ত্রীয় রীতি মেনে নিষ্ঠাভরে পূজো হয়। লস্করপুরের কালীপুজোয় পাঠা বলির রীতি সুপ্রাচীন। পাশাপাশি পায়রা বলিরও রীতি রয়েছে এখানে।’
লস্করপুর সার্বজনীন কালী পুজো কমিটির সভাপতি সমেশচন্দ্র অধিকারীর কথায়, ‘লস্করপুরের কালীপুজোকে ঘিরে দুদিন ধরে মেলা বসে। এলাকার বাসিন্দারা ছাড়াও সামসী, গাজোল, আলাল, চাঁচল, মালতীপুর, হরিশ্চন্দ্রপুর, রতুয়া প্রভৃতি এলাকা থেকে প্রচুর মানুষ এসে ভিড় জমান এই মেলায়।’
তবে মেলায় বহু দূরান্ত থেকে দোকান ব্যবসায়ীরা তাঁদের পসরা সাজান। মেলায় থাকে উপছে পড়া ভিড়। তবে এই মেলায় কাঠের আসবাবপত্রের বিশেষ চাহিদা রয়েছে। প্রচুর কাঠের আসবাবপত্রের দোকান বসে।
