উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হয়েছে একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিল (Russia Sanctions Invoice)। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সই করলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে। এর ফলে ভারত, চিনের মতো রুশ তেল (Russian oil) আমদানিকারক দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যাবে। তবে এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল যে, দেশের বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে সর্বাত্মক পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না নয়াদিল্লি।
এক বিবৃতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, ‘১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। জ্বালানি সংগ্রহের উৎস বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি বাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।’ বিগত কয়েক মাসে বিভিন্ন মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে ভারত তার দৃঢ় সংকল্পের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। আমেরিকার এই পদক্ষেপের প্রভাব মোকাবিলায় বাণিজ্যিক ও শিল্প সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে ভারত।’
বুধবার (আমেরিকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী) মার্কিন আইনসভার নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাশ হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। গত মাসে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটেও বিলটি ৮৬-১১ ভোটে অনুমোদিত হয়েছিল এবং বর্তমানে এটি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। ইউক্রেন সংঘাতে মস্কোর ওপর আর্থিক চাপ বাড়াতে এই বিলে রাশিয়ার জ্বালানি খাত, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র এবং তেল পরিবহনে সাহায্যকারী সন্দেহভাজন ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন জাহাজ বহরকে নিশানা করা হয়েছে। তবে এই বিল পাশ হওয়ার অর্থ এই নয় যে ভারতীয় পণ্যের উপর সঙ্গে সঙ্গেই ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে। বরং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা চলে যাবে। আমেরিকার মূল যুক্তি হল, এই তেল ও গ্যাসের রাজস্ব থেকেই মস্কো ইউক্রেন যুদ্ধের তহবিল সংগ্রহ করছে। যদি মার্কিন প্রশাসন শেষ পর্যন্ত এই আইন প্রয়োগ করে, তবে তার প্রভাব পড়বে আমেরিকায় পাঠানো ভারতীয় পণ্যগুলির ওপর। এর ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় সামগ্রীর খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।

