Russia | পুতিনের প্রাসাদের কাছে ড্রোন হামলা! রাশিয়ার সৈকতে প্রলয়, শিশু সহ নিহত অন্তত ৭

Russia | পুতিনের প্রাসাদের কাছে ড্রোন হামলা! রাশিয়ার সৈকতে প্রলয়, শিশু সহ নিহত অন্তত ৭

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ইউক্রেনের (Ukraine) ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠল রাশিয়ার (Russia) কৃষ্ণসাগরের তীরবর্তী জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র জেলেনডঝিক! আর্খিপো-ওসিপোভকা (Arkhipo-Osipovka) রিসর্টের একটি জনবহুল সৈকতে এই বিধ্বংসী ড্রোন আছড়ে পড়ে। এই ভয়াবহ হামলায় তিন শিশু সহ মোট সাতজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। যুদ্ধের চার বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এটি অন্যতম সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও-য় (ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) দেখা গিয়েছে, একটি দ্রুতগামী ড্রোন ব্যস্ত সমুদ্রসৈকতে এসে সজোরে আছড়ে পড়ছে এবং মুহূর্তে এক বিকট বিস্ফোরণে চারদিক ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে। পর্যটকরা প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু করেন। রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ২১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই ঘটনাকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর জন্য কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলিকেই দায়ী করেছেন।

অন্যদিকে, এই হামলার ঠিক আগেই কিয়েভে এক বক্তব্যে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন যে, রাশিয়া নিজেই ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে। তিনি জানান, মস্কোকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে ইউক্রেন সামরিক চাপ ও দীর্ঘপাল্লার হামলা অব্যাহত রাখবে। তবে জেলেনস্কির দেশ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং কিয়েভ বারবারই দাবি করে আসছে যে তারা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে কখনো আক্রমণ চালায় না।

সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ড্রোনটি সাধারণ সৈকত নয়, বরং অন্য কোনো কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়েছিল। ঘটনাস্থলে বিস্ফোরণের আগে আকাশপথে ভারী গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা গিয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী বা ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কারণে ড্রোনটি পথভ্রষ্ট হয়ে জনবহুল সৈকতে আছড়ে পড়ে থাকতে পারে। উল্লেখ্য, এই জেলেনডঝিক এলাকাতেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুক্ত বিতর্কিত বিলাসবহুল প্রাসাদটি অবস্থিত। তবে এই ঘটনার সঙ্গে প্রাসাদের কোনো সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সীমিত হয়ে যাওয়ায় এই ব্ল্যাক সি রিসর্টটি রুশ পর্যটকদের অন্যতম প্রধান অবকাশ যাপন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু গ্রীষ্মের এই ভরা মরশুমে ঘটে যাওয়া এই রক্তক্ষয়ী ড্রোন হানার জেরে পুরো রাশিয়ায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *