নয়াদিল্লি: সেন্সর বোর্ড ছাড়পত্র না দিলে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা যায় না। ভবিষ্যতে কি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট (OTT Content material) প্রদর্শনে কোনও ছাড়পত্র লাগবে? ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিশেষ করে ওয়েব সিরিজের বিষয়বস্তু এখন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের আতশকাচের তলায়। ‘সাংস্কৃতিক দূষণ’ ও নৈতিক অবক্ষয় রোখার যুক্তিতে সংঘ ইতিমধ্যে সেন্সর বোর্ডের ধাঁচে একটি প্যানেল তৈরি করে ফেলেছে (RSS Panel)।
প্রাক্তন উপাচার্য ও প্রচারকদের নিয়ে গঠিত ওই প্ল্যাটফর্মটি ওটিটি-র কনটেন্টের ওপর নজরদারি করে তার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠাবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। প্রাক্তন উপাচার্যদের পাশাপাশি শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সংঘের প্রবীণ প্রচারকদের নিয়ে গঠিত প্যানেলটি সম্প্রতি প্রথম বৈঠকও করে ফেলেছে। এরপর আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে নজরদারি কাঠামোর রূপরেখা তৈরি করা হবে, যা পরে জমা দেওয়া হবে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রকে।
ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার সামাজিক উদ্যোগ ‘পরিবার প্রবোধন’-এর (পারিবারিক মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবন বিষয়ক কমিটি) বার্তার ওপর ভিত্তি করে কয়েক মাস আগে এই প্যানেলটি সংঘ গড়ে তুলেছে। দু’বছর আগে নাগপুরে বিজয়া দশমীর ভাষণে সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত ওটিটির বিষয়বস্তুর আইনি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন।
তাঁর দাবি ছিল, এই মাধ্যমে দেখানো অনেক বিষয় কুরুচিকর এবং তা সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। বাংলার অভিনেত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী আরএসএস-এর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বুধবার বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে ওটিটি-র ওপর নজরদারির গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অধঃপতন রুখতে এটা প্রয়োজন।’
প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা প্রদর্শনের আগে চলচ্চিত্র শংসাপত্র পর্ষদ (সিবিএফসি) ছাড়পত্র দেয়। কিন্তু ওটিটির বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণে পৃথক শংসাপত্র পর্ষদ নেই। আপাতত ২০২১ সালের তথ্যপ্রযুক্তি বিধি ও সম্পর্কিত আইনি কাঠামোয় এই মাধ্যমটি নিয়ন্ত্রিত হয়। গত জুলাই মাসে লোকসভায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অশ্লীল বিষয়বস্তুর অভিযোগে গত দু’বছরে প্রায় ৫০টি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সংঘের প্রস্তাবিত ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের মন্তব্য আসতে শুরু করেছে। খাদ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে ‘তাসের দেশ’, ‘গান্ডু’ ইত্যাদি ছবির পরিচালক কিউ (কৌশিক মুখার্জি) ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, ‘সরকার যদি মানুষের মৌলিক অধিকারগুলি দিতে পারে, তাহলে তাদের অন্য নির্দেশও মেনে নেওয়া যেতে পারে।’

