উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশজুড়ে শতবর্ষ পালন করছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। সেই উপলক্ষে বেঙ্গালুরুতে রবিরার ‘সংঘের ১০০ বছর যাত্রা: নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক ২ দিনের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। সেখানেই এক প্রশ্নের উত্তরে মোহন ভাগবত বলেন, ‘মুসলিম ও খ্রিস্টান সহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষকেই সঙ্ঘ স্বাগত জানায়, যদি তারা ভারত মাতার সন্তান এবং বৃহত্তর হিন্দু সমাজের সদস্য হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়।’ তিনি স্পষ্ট করে দেন, ‘আরএসএস জাতি বা ধর্ম অনুসারে কাউকে শ্রেণীভুক্ত করে না। কোনও ব্রাহ্মণ, অন্য কোনও বর্ণ, মুসলিম এবং কোনও খ্রিস্টানের জাতি পরিচয়ের ভিত্তিতে সঙ্ঘে আলাদা করে প্রবেশাধিকার নেই। শুধুমাত্র হিন্দুদেরই প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। মুসলিম ও খ্রিস্টান সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকেরা সঙ্ঘে যোগ দিতে পারে তবে তাদের পৃথকীকরণ প্রবণতা বাদ দিয়ে আসতে হবে।’ ভাগবতের কথায় সঙ্ঘের দৃষ্টিভঙ্গি একটি বিভক্ত জাতীয় পরিচয়ের মধ্যে ঐক্য এবং অন্তর্ভুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি। তিনি বলেন, ‘মুসলিম, খ্রিষ্টান ও হিন্দুরাও সমাজের অন্যান্য সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে, সঙ্ঘের শাখায় আসে। কিন্তু আমরা তাদের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করি না, আমরা সকলেই ভারত মাতার সন্তান। সঙ্ঘ এভাবেই কাজ করে।’
আরএসএসের রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, ‘সংঘ ১৯২৫ সালে শুরু হয়েছিল। আপনি কি আশা করেন যে আমরা ব্রিটিশ সরকারের কাছে নিবন্ধিত হব? কার বিরুদ্ধে? আমাদের তিনবার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সরকার আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা যদি সেখানে না থাকতাম, তাহলে তারা কাকে নিষিদ্ধ করত? প্রতিবারই আদালত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে আরএসএসকে একটি আইনি সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।’ ভাগবতের সংযোজন, ‘আইনগত এবং বাস্তবিকভাবে, আমরা একটি সংগঠন। আমরা অসাংবিধানিক নই। আমরা সংবিধানের মধ্যে কাজ করি। তাই আমাদের নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। অনেক কিছু নিবন্ধিত নয়, এমনকি হিন্দু ধর্মও নিবন্ধিত নয়।’ কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সংযোগও অস্বীকার করেছেন ভাগবত। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট মতাদর্শের ভিত্তিতে চলি। কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না। নির্বাচনকেন্দ্রীক রাজনীতিতেও আরএসএস অংশ নেয় না। সঙ্ঘ শুধু মাত্র সমাজকে একত্রিত করতে কাজ করে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমরা অযোধ্যায় রামমন্দির স্থাপণের পক্ষে ছিলাম, তাই যারা রামমন্দির প্রতিষ্ঠার পক্ষে ছিল আমাদের স্বয়ংসেবকরা তাদের সমর্থন করেছে। কংগ্রেস যদি আমাদের মতাদর্শকে সমর্থন করত তাহলে আমরাও কংগ্রেসকে সমর্থন করতাম।
