উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : ২১ জুলাইয়ে শাসক দলের মেগা ইভেন্টের ঠিক মুখে বড়সড় সাংগঠনিক ধাক্কা খেল কালীঘাট শিবির। দলবদলের হিড়িক রুখতে ব্যর্থ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। শুক্রবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে তাঁর শিবিরে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দিলেন উত্তর ২৪ পরগনার দুই হেভিওয়েট নেতা— বনগাঁর প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস (Biswajit Das) এবং রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়। একই দিনে দুই সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতির এই ‘ঘরবদল’ উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট করে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শুক্রবার বিধানসভায় নাটকীয় মোড় নেয় রাজ্য রাজনীতি। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে দীর্ঘ বৈঠক করেন বিশ্বজিৎ দাস। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানও। এই বৈঠকের কিছুক্ষণের মধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূলে যোগ দেন বিশ্বজিৎ ও তাপস চট্টোপাধ্যায়। ২১ জুলাইয়ের ঠিক আগে এই জোড়া যোগদান ঋতব্রত শিবিরের কাছে মস্ত বড় রাজনৈতিক জয়।
বিশ্বজিৎ দাসের রাজনৈতিক গ্রাফ বরাবরই চমকপ্রদ। ২০১১ ও ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে জিতলেও, ২০২১-এর ভোটের আগে তিনি পদ্মশিবিরে যোগ দিয়ে বাগদা থেকে বিধায়ক হন। তবে মোহভঙ্গ হতে সময় লাগেনি; দ্রুতই কালীঘাটে ফিরে মমত বন্দোপাধ্যায়ের হাত ধরেন। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ উত্তর থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হলেও শেষ পর্যন্ত বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অশোক কীর্তনিয়ার কাছে পরাজিত হন বিশ্বজিৎ। হারের পর থেকে আড়ালে থাকা বিশ্বজিৎ এদিন সরাসরি ঋতব্রত শিবিরের হাত ধরে নতুন ইনিংস শুরু করলেন।
শুধু বিশ্বজিৎ নন, রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক ও বারাসত সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি তাপস চট্টোপাধ্যায়ের (Tapas Chattopadhyay) শিবির বদলও কালীঘাট শিবিরের জন্য চরম অস্বস্তির। উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় বিশ্বজিৎ ও তাপসের মতো পোড়খাওয়া দুই সংগঠককে হারিয়ে তৃণমূলের অন্দরে এখন কার্যত হাহাকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২১ জুলাইয়ের আগে এই জোড়া দলবদল শুধু সংখ্যার খেলা নয়, এটি আদতে মমতা-অভিষেক শিবিরের বিরুদ্ধে ঋতব্রত শিবিরের একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক জয়।

