রামপ্রসাদ মোদক, রাজগঞ্জ: জেলে যাবেন কি রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টায় এখন রাজগঞ্জ (Rajganj) সহ উত্তরবঙ্গ। চায়ের দোকান থেকে মাছের বাজার, প্রবীণদের আড্ডা থেকে খেলার মাঠ, সর্বত্রই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে কৌতূহল। সুপ্রিম কোর্ট প্রশান্তকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিতেই, তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
কলকাতার দত্তাবাদের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্তর (Prasanta Barman) নিম্ন আদালতে পাওয়া জামিন বাতিল করে দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। সেইসঙ্গে রাজগঞ্জের বিডিওকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই নিখোঁজ প্রশান্ত। আত্মগোপন অবস্থায় তিনি জামিনের আবেদন জানান সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর আবেদন খারিজ করে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দেন। ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিডিও প্রশান্ত বর্মন এখনও আত্মসমর্পণ করেননি।
সরস্বতীপুজোর দিন অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণ করে তিনি জেলে যাবেন কি না, এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মধ্যে। রাজগঞ্জের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা কিন্তু চাইছেন তাঁর কঠোর সাজা। রাজগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সঞ্জীব মোদক বলছেন, ‘আমাদের মতো ব্যবসায়ীরা খুব উৎসুক সরস্বতীপূজার দিন কী ঘটে, তা দেখার জন্য। সকলেই চাইছেন খুনের মতো একটি মারাত্মক অপরাধে অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিওর সাজা হোক।’ চায়ের দোকানদার দিগম্বরের কথায়, ‘রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে নিয়ে প্রত্যেকদিন দোকানে মানুষের আলোচনা চলছে। বিডিও কি আত্মসমর্পণ করে জেলে যাবেন, নাকি আত্মগোপন করেই থাকবেন, জানতে চাইছেন মানুষ। সবই কানে আসছে।’ পুলিশ কেন বিডিওকে গ্রেপ্তার করছে না, সেই প্রশ্নও কিন্তু রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমনই একজন বললেন, ‘জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যেখানে বিডিওকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে, তারপরেও পুলিশ চুপ কেন?’ পাগলার হাটের চা পাতার দোকানদার সুশীল ভৌমিকের কথায়, ‘সাধারণ মানুষ চা পাতা কিনতে এসেও বিডিওকে নিয়ে আলোচনা করছেন। এমন ঘটনা এর আগে কখনও দেখিনি।’ মাঠের মধ্যে ক্রিকেট খেলায় ব্যস্ত রাজগঞ্জ বাবুপাড়ার বাসিন্দা তাপস রায় বলটি ছুড়ে দিয়ে বললেন, ‘ছেলেরা জানতে চাইছে বিডিও কি জেলে যাবে?’
জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন বিডিওর দায়িত্ব থেকে প্রশান্তকে সরিয়ে দিয়েছে। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জয়েন্ট বিডিওকে। প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্তে বকেয়া টাকা পাওয়ার আশায় ঠিকাদাররা। বুধবার বিডিও অফিস চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা পেশায় ঠিকাদার দিলীপ দাস বলেন, ‘নতুন বিডিওর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। তিনি এসআইআর-এর কাজে ব্যস্ত থাকায় দেখা হয়নি। আশা করছি, এবার বকেয়া টাকা পাব।’ এসআইআর-এর কাজে ব্যস্ত বিডিও অফিসের এক কর্মী বললেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর মনটা হালকা লাগছে।’
