উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ককে নিয়ে বিধানসভায় যাওয়ার জল্পনাকে কার্যত ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিলেন সদ্য বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। সম্প্রতি বিজেপি নেতা তাপস রায়ের (Tapas Roy) একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ঋতব্রত ৫০ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে স্পিকারের কাছে গিয়েছেন। তবে বিধানসভায় প্রবেশের মুখে এই খবর শুনেই ঋতব্রত বিস্ময় প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “কীসের তালিকা? আমি নিজের কাজে বিধানসভায় এসেছি, কোনো তালিকা নিয়ে আসিনি। এগুলি সব ভিত্তিহীন জল্পনা।” তিনি জানান, তিনি বা সন্দীপন সাহা—নিজেরাই নিজেদের দায়বদ্ধ, অন্য কারও দায়িত্ব তিনি নেননি।
দল থেকে বহিষ্কার এবং সই জাল-কাণ্ডের আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা পুনর্ব্যক্ত করে ঋতব্রত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী। দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা কমবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলটা আজ হাইজ্যাক হয়ে গেছে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আই-প্যাক (I-PAC)-কে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “তৃণমূলের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্পোরেট ঘরানার পার্টির কোনো মিল নেই।” তাঁর অভিযোগ, দলটা পুরোপুরি আই-প্যাকের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। এমনকি ভোটের সময় উলুবেড়িয়া এলাকায় এজেন্টদের বসতে না দেওয়া এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তিনি দলীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা পাননি বলে দাবি করেন।
বর্তমানে রাজ্য সরকারের কাছে তিনি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, এই বহিষ্কার ও রাজনৈতিক তরজা যে শাসকদলের অন্দরের ক্ষোভকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল, তা স্পষ্ট।
